গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ : মামলা নেয়নি পুলিশ
নীলফামারীর ডিমলায় মুক্তি পারভীন (২২) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ রাস্তায় ফেলে পালিয়েছে স্বামী। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য জেলার মর্গে পাঠিয়েছে। তবে নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।
জানা যায়, খালিশা চাপানির মৃত আব্দুল লতিফের মেয়ে মুক্তি পারভিনের সঙ্গে ঝুনাগাছ চাপানি গ্রামের মৃত সহিদার রহমান ছেলে রফিকুল ইসলামের ২০০৬ সালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে মুক্তির উপর নির্যাতন করে আসছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে মু্ক্তিকে জলঢাকা হাসপাতালে থেকে রংপুর নেয়ার পথে সে মারা যায়। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী রফিকুল ইসলাম পালাতক রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতেই মুক্তির পরিবার হত্যার অভিযোগে মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটি গ্রহণ না করায় এটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছে এলাকাবাসী।
মুক্তির ভাই মোক্তাদিরুল মবিন ওরফে মিঠু বলেন, ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম যৌতুকের আড়াই লাখ টাকার জন্য তার বোনের উপর শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এ ব্যাপারে একাধিকবার আপোষ মিমাংশা করা হয়েছে। আমার বোনকে হত্যার অভিযোগ থানায় দেয়া হলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানায়, মুক্তি অসুস্থ থাকায় মঙ্গলবার সকালে জলঢাকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে রংপুর হাসপাতালে তাকে রেফার্ড করা হয়। রংপুর নেয়ার পথে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়েছে।
তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। হাসপাতালে মুক্তির চিকিৎসার কাগজপত্র তার কাছে আছে বলেও জানান তিনি।
জাহেদুল ইসলাম/এফএ/পিআর