নওগাঁ সরকারি কলেজের হোস্টেল দুটি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে ছাত্ররা


প্রকাশিত: ০৯:২৬ এএম, ১৭ আগস্ট ২০১৬

নওগাঁ সরকারি কলেজের হোস্টেল দুটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েছেন ছাত্ররা। প্রায় তিন মাস হোস্টেল বন্ধ থাকায় ছাত্রদের পড়াশুনায় ক্ষতি হচ্ছে। ছাত্ররা অবিলম্বে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হোস্টেল চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

কলেজের নতুন ও পুরাতন কাজী নজরুল ইসলাম ছাত্রাবাসে থেকে প্রায় ১শ ছাত্র পড়াশুনা করতেন। যেসব ছাত্র হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করতেন তাদের অধিকাংশই দূর-দূরান্ত থেকে আসা গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাইরের ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশুনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

কিন্তু বহিরাগত কিছু ছাত্র অনিয়ম করে দীর্ঘদিন থেকে জোরপূর্বক হোস্টেলে অবস্থান করছিল। তারা কোনো টাকা পয়সা না দিয়ে হোস্টেলে ফ্রি থাকা-খাওয়া করত। এছাড়া হোস্টেলের অন্য ছাত্রদের কাছ থেকে জোর করে টাকা পয়সা আদায় করতো। টাকা না দিলে তাদেরকে নির্যাতন করা হতো। এতে ছাত্ররা প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে বহিরাগতদের সঙ্গে তাদের মারমারি হয়।

পরে গত ৯ মে দুপুরের মধ্যে সব ছাত্রদের হোস্টেল ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। হোস্টেল খালি হলে বিকেলে হোস্টেল দুটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর ৩ মাস পার হলেও হোস্টেল চালু করা হয়নি। হোস্টেলের ওইসব ছাত্ররা কেউ বন্ধুর ছাত্রাবাসে গেস্ট হিসেবে আছে। আবার অনেকে বাড়িতে অবস্থান করছে।

নতুন কাজী নজরুল ইসলাম ছাত্রাবাসের মনিটর ছিলেন বাংলা তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রানা হোসেন রনি। তিনি বলেন, বহিরাগত ছাত্রদের উৎপাতে আমরা অতিষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম। তাদের হোস্টেল থেকে বের করতে আমাদেরকেও বের করে দেয়া হয়েছে। এখন একের পাপে দশের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।

প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাহমুদুল হাসান এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বাবুল হোসেন জানান, আমরা গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান। বাইরের ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশুনা করা সম্ভব হয় না। আর কলেজ হোস্টেলে সব খরচ দিয়ে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় মাস পার হয়ে যেত। সেখানে বাইরের ছাত্রাবাসে প্রতি মাসে সিট ভাড়া দিতে হয় নিন্ম ৫শ টাকা থেকে হাজার টাকার উপর। এ ছাড়াও অন্যান্যে খরচ দিয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লেগে যায়।

হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট এবং গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মনির উদ্দিন মন্ডল জানান, শিগগিরই নতুন হোস্টেল চালু করা হবে। আর দুইতলা বিশিষ্ট এ হোস্টেলে ৪৮টি আসন সংখ্যা হলেও তা পার্টিশন দিয়ে ৫৬টি করা হয়েছে। যেসব ছাত্র হোস্টেলে থাকতে চায় তাদেরকে নতুন আবেদন ফরম নিয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

২১ আগস্ট আবেদন ফরম জমা দেয়ার শেষ দিন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের একটা পরীক্ষা নেয়া হবে। এরপর ফলাফল, দূরত্ব এবং আর্থিক দিক বিবেচনা করে হোস্টেলে সিট দেয়া হবে। অনিয়ম করে কোনো ছাত্রকে কলেজ হোস্টেলে সিট দেয়া হবে না। যারা আগে হোস্টেলে ছিল তাদেরকেও নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে।

এবিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম জিল্লুর রহমান জানান, নতুন হোস্টেল এবং পুরাতন হোস্টেল মিলে প্রায় ৮ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। অবিলম্বে নতুন হোস্টেল চালু করা হবে। তবে পুরাতন হোস্টেল টিনসেড ও ঘরের মেঝেতে পানি জমে থাকায় বর্তমানে তা চালু করা হবে না। সেটা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]