‘চায়ের দোকানে আড্ডার মাঝেই ক্লাস নেয়া হতো’
‘মামাতো ভাইয়ের মাধ্যমেই ভুল পথের যাত্রা শুরু। এরপর চায়ের দোকানে আড্ডার মাঝেই ক্লাস নেয়া হতো।’ এভাবেই জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র ফখরুল আলম তুষার (২২)।
স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য রোববার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে তুষার এভাবেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ দিন দুপুরে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মনির-উজ-জামানের উপস্থিতিতে হিযবুত তাহরীরের সাবাব সদস্য (প্রাথমিক) ফখরুল ইসলাম তুষার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
তুষার যশোর শহরের আরবপুর এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।
জঙ্গির আত্মসমর্পণ উপলক্ষে পুলিশ সুপার আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ফখরুল ইসলাম তুষার বলেন, দুই বছর আগে শহরের ধর্মতলা এলাকার চায়ের দোকানে আড্ডায় হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এই পরিচয় করিয়ে দেয় তার মামাতো ভাই রায়হান আহমেদ। যে দশদিন আগে (১১ আগস্ট) হিজবুত তাহরীর সদস্য হিসেবে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
এরপর থেকে চায়ের দোকানোর আড্ডায় ২/৩ জন হিজবুত তাহরীর সদস্য তাকে ধর্মীয় নানা বিষয় সম্পর্কে তাদের ভাবনার কথা বলতো। ধর্মীয় সাধারণ বিষয়বস্তু নিয়ে কিছুদিন আলোচনার পর ইসলামী আইন কানুন সম্পর্কে তাদের মতো করে ব্যাখ্যা করতো।
তুষার জানান, তারা বলতো ইসলামিক দৃষ্টিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে না। তারা ইসলামিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলতো।
তুষার উল্লেখ করেন, ‘তারা যখন এই সব বিষয় বলতে শুরু করলো, তখন আমি বুঝতে পারি তারা কোনো জঙ্গি দলের সদস্য। আমাকে ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে নেয়ার চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গে থেকে তাদের সদস্য হওয়ার ভুল বুঝতে পেরে আমি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তুষার আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন যারা ভুল পথে গিয়েছে তারা ফিরে আসলে আইনী সহায়তা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ প্রদান করা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি আত্মসমর্পণ করবো। এরপর আত্মসমর্পণ করেছি।
তুষার উল্লেখ করেন, এসব সংগঠন ইসলামের নামে যেসব কথা বলে তা সঠিক নয়। ইসলামের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ নেই। তাই তার মতো যারা ভুল পথে আছেন তাদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি মনির-উজ-জামান বলেন, ভুল বুঝতে পেরে তুষার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় আমরা তাদের অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে আইনি সহায়তা প্রদান করবো।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ও নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডিআইজি মনির-উজ-জামানের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের তিন সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। সংগঠনটির মোশরেফ ও সাবাব পদবির তিনজন ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আত্মসমর্পণ করে।
এরা হলো- যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা কদমতলা এলাকার মৃত শফিয়ার রহমানের ছেলে সাদ্দাম ইয়াসির সজল (৩২)। তিনি হিযবুত তাহরীরের মোশরেফ সদস্য। অপর দুইজন সংগঠনের সাবাব সদস্য। তারা হলেন- যশোর শহরতলীর ধর্মতলা মোড় এলাকার আবদুস সালামের ছেলে রায়হান আহমেদ (২০) ও যশোর শহরতলীর কদমতলা এলাকার একেএম শারাফত মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান পলাশ (২০)।
মিলন রহমান/এসএস/পিআর