বিয়ের দাবিতে গৃহশিক্ষকের বাড়িতে ছাত্রী


প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ২১ আগস্ট ২০১৬

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা দক্ষিণ খড়িবাড়ী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী বিয়ের দাবিতে তার গৃহশিক্ষকের বাড়ি অবস্থান নিয়েছে। এ ঘটনার পর ওই গৃহশিক্ষক গাঢাকা দিয়েছেন।

শনিবার সকাল থেকে ওই ছাত্রী বিয়ের দাবিতে গৃহশিক্ষকের বাড়িতে অবস্থান করছে।   

এলাকাবাসী জানায়, গৃহশিক্ষক হওয়ার সুযোগে দক্ষিণ খড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ও টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ি গ্রামের রথডাঙ্গা পাড়ার ফজল আলীর মেয়ের সঙ্গে একই এলাকার মৃত মান্নান মুন্সীর ছেলে গোলাম রাব্বানীর (২২) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন গোলাম রাব্বানী। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ছাত্রীর সন্তান নষ্ট করা হয়। গত ১১ আগস্ট ডিমলা হাসপাতালে ওই ছাত্রীর গর্ভের পাঁচ মাসের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে পরিবার।

ওই ছাত্রী বলে, আমি গত আট মাস থেকে গোলাম রাব্বানীর কাছে প্রাইভেট পড়ি। প্রাইভেট শুরুর দুই মাসের মাথায় গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমার সময় নাই তুমি আমার বাসায় পড়তে আস। সেই থেকে আমি প্রাইভেট পড়তে তার বাসায় যাই।’

কিন্তু প্রাইভেট পড়ার সুযোগে গোলাম রাব্বানী আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এতে আমি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হই। এ বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে একদিন আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডিমলা হাসপাতালে আমার অজান্তে গর্ভের সন্তান নষ্টা করা হয়।  

ওই ছাত্রী আরো বলেন, গৃহশিক্ষক আমাকে বলেছেন গর্ভপাত না হলে বিয়ে করা সম্ভব হবে না। কিন্তু যখন বিয়ের কথা বলেছি তখনই সে বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করতে থাকেন। এ অবস্থায় আমি তার বাড়ি অবস্থান নিয়েছি। এছাড়া আমার অন্য কোনো উপায় ছিল না।
 
গৃহশিক্ষকের বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মেয়েটির বয়স কম। কীভাবে বিয়ে দেব।

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর ওই গৃহশিক্ষক গাঢাকা দিয়েছে। যে বাড়িতে সে থাকত সেখান থেকে পালিয়েছে।  
     
জাহেদুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।