ধর্মঘটে কর্মহীন না.গঞ্জের বন্দর শ্রমিকরা


প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৬
ফাইল ছবি

সর্বনিম্ম মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ ও নৌপথে সন্ত্রাসবাদ বন্ধসহ নদীর নাব্যতা রক্ষার দাবিতে ২২ আগস্ট মধ্যরাত থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির সমর্থনে বুধবারও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বল্প দূরত্বের কিছু লঞ্চ ছেড়ে গেলেও দূরপাল্লার লঞ্চগুলো চলাচল করেনি। অয়েল ট্যাংকারগুলো হরতালের আওতামুক্ত থাকলেও বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করছে না। ফলে যাত্রীরা যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন, তেমনি পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লোড-আনলোড শ্রমিকরা।

এদিকে বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন নৌযান শ্রমিকরা। বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ২নং রেলগেট, চাষাঢ়া ও কালীরবাজার ঘুরে ৫নং ঘাট এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ নেতা আইনুল হোসেন উত্তমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সবুজ শিকদার, মোস্তাফিজুর রহমান, মিন্টু মাস্টার, আলমগীর মাস্টার, কবির মাস্টার, আবু তালেব মাস্টার, নাসির হোসেন, কবির হোসেন, নাননু মিয়া, আক্তার হোসেন ও সরদার আলমগীর প্রমুখ।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীতে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে নোঙর করা রয়েছে পণ্যবাহী নৌযান। জাহাজগুলো স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সামনে নোঙর করে রাখলেও লোড-আনলোড হচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের বরফকল জেটি, কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশন, ৫নং সারঘাট, মাছবাজার, ডালপট্টি লেবার হ্যান্ডলিং পয়েন্ট, পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র নিতাইগঞ্জের মাছুয়াবাজার, কাঠপট্টিসহ বিভিন্ন স্থানে লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। এতে লোড -আনলোড শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।

শহরের খানপুরের বরফকল জেটির লোড আনলোড শ্রমিক নেতা রাকিব সরদার জানান, বরফকল জেটিতে প্রতিদিন আনুমানিক এক থেকে দেড় হাজার টন পণ্য লোড-আনলোড হয়ে থাকে। নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে লোড-আনলোড বন্ধ।

নিতাইগঞ্জের সম্মিলিত ব্যবসায়ী সমিতির নেতা ও গম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জসিমউদ্দিন জানান, নৌ ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে নিতাইগঞ্জের পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্রেও। ধর্মঘটের কারণে খাদ্যপণ্য আসতে পারছে না। আর যেগুলো এসেছে সেগুলোও লোড-আনলোড হচ্ছে না।    

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জসহ স্বল্প দৈর্ঘ্যের রুটে কিছু যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর, সুরেশ্বরসহ অন্যান্য রুটের লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের পরিদর্শক (ট্রাফিক) সমর কৃষ্ণ সরকার জানান, বুধবার মুন্সীগঞ্জ ও মতলব রুটের কিছু লঞ্চ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

অন্য রুটের লঞ্চ না চলাচলের কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, ওইসব রুটের লঞ্চ মাস্টার ছাড়া চালানো যায় না। যে কারণে ওই সকল লঞ্চ চলাচল করছে না। স্বল্প দৈর্ঘ্যের রুটের লঞ্চগুলো সুকানি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

শাহাদাত হোসেন/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।