স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রীকে মারপিট এবং বিষ খাইয়ে হত্যার অপরাধে মানিকগঞ্জে আনোয়ার হোসেন পেয়াদা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হাছিনা রৌশন জাহান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এই মামলার আরো তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৫ সালের ১৩ জুনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মামলার বাদী শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের জমদুয়ার গ্রামের মো. হানিফ আলীর বোন আছমা আক্তারের সঙ্গে ঘটনার ১৩ বছর আগে বিয়ে হয় একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন পেয়াদার। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম হয়। তবে যৌতুকের জন্য আনোয়ার হোসেন প্রায়ই তার স্ত্রী আছমা আক্তারকে মারধর করতো।
ঘটনার দিন এক লাখ টাকার জন্য আনোয়ার হোসেন পেয়াদা বেদম মারধর করে আসমা আক্তারকে। খবর পেয়ে বাদী মো. হানিফ বোনের শ্বশুড় বাড়িতে ছুটে যান। এসময় তার বোন গুরুতর অবস্থায় জানায় মারধর করার পর অসুধ খাওয়ানোর কথা বলে তাকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পথে আসমা আক্তারে মৃত্যু হয়।
পরের দিন হানিফ আলী শিবালয় থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আনোয়ার হোসেন পেয়াদসহ এতে আসামি করা হয় আ. ছালাম পেয়াদা, মনির হোসেন পেয়াদা, ও হারুন পেয়াদাকে। দুপুরে আদালত আনোয়ার হোসেনের ফাঁস দেন। বাকিদের বেকসুর খালস দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি একেএম নুরুল হুদা রুবেল এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন দেবেন্দ্র নাথ পোদ্দার।
বি.এম খোরশেদ/এআরএ/আরআইপি