অন্যকে ফাঁসাতে নিজ শিশুকে গলাকেটে হত্যা


প্রকাশিত: ০৩:১৩ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৬

নীলফামারীতে অন্যকে ফাঁসাতে চার বছরের মেয়ে শিশু সুখুমনিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছেন মা মতিজন বেগম (৫০)।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জেলা চিফ জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এর বিচারক আকরাম হোসেনের আদালতে মতিজান বেগম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এ ঘটনায় রোববার মামলার বাদী ও শিশুটির বাবা ইনছান আলীকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিমলা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৪ আগস্ট বুধবার মধ্য রাতে জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের গুচ্ছগ্রামে একটি বাঁশঝাড় থেকে গলাকাটা ওই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ইনছান আলী বাদী হয়ে গ্রামের চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু তদন্তে হত্যার আলামত খুঁজে পাওয়া যায় বাদীর বাড়িতেই। ফলে মামলার বাদীর স্ত্রী মতিজান বেগমকে শুক্রবার রাতে আটক করা হয়।

এ সময় গলাকাটার কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও মরদেহ বহনের তুষের বস্তা উদ্ধার করা হয়।

তিনি স্বীকার করেন স্বামী ও স্ত্রী নিজের মেয়ে সুখুমনিকে হত্যা করে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। মামলার তদন্তে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

আটকের পর বাদীর স্ত্রী মতিজান বেগম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের সন্তানকে হত্যা এবং মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে দেয়ার স্বামীর সহযোগিতার কথা স্বীকার করলে আদালতে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

ফলে পুলিশ শনিবার রাতে মামলার বাদী শিশুটির বাবা ইসছান আলীকে গ্রেফতার করে। তাকে রোববার দুপুরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, ইনছান আলীর পরিবারের সাত মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে চার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সাত বছরের মেয়ে আয়শা আক্তারকে একজনকে লালন পালন করার জন্য দত্তক দিয়েছেন।

বাড়িতে ইনছান আলী (৬০), স্ত্রী মতিজন বেগম (৫০), ছয় বছরের মেয়ে নাছিমা বেগম, চার বছরের মেয়ে সুখুমনি ও দুই বছরের ছেলে ইয়াছিন থাকতো।

সন্তান হত্যার বিষয়ে মা মতিজান তার জবানবন্দিতে বলেছেন, ঘটনার দিন সকাল অনুমান ১১টায় দিকে ছেলে ইয়াছিন ও সুখুমনি মারামারি করছিল।

এ সময় তাদের থামাতে গিয়ে সুখুমনির গলা চেপে ধরলে শিশুটি তাৎক্ষণিকভাবে মারা যায়। শিশুর মৃত্যু হলে মতিজান বেগম ও তার স্বামী ইনছান আলী সুকৌশলে গোয়াল ঘরে মরদেহ খড় দিয়ে ডেকে রাখে।

সন্ধ্যার পর শিশুটির মরদেহ ছুরি দিয়ে কেটে বস্তার ভেতর ভরে রাখে। রাত ৮টার দিকে বাড়ির ২০০ গজ দক্ষিণ গ্রামের আমিনুরের বাঁশঝাড়ের গর্তে ফেলে এসে স্বামী স্ত্রী গোসল করে নেয়। এ সময় মরদেহ রাখা বস্তা ও ছুরি পরিষ্কার করে রাখেন তারা।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।