পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে যে শহরে


প্রকাশিত: ০৬:৫৭ এএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬

চড়ুই পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে শহর। বিকেল থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত মুখরিত থাকে পাখির কিচির মিচির শব্দ। পাখির কোলাহলে ভোরে ঘুম ভাঙে শহরের মানুষের। মৌসুমি এসব চড়ুই পাখি কোথা থেকে এসেছে তা জানে না স্থানীয়রা।

নওগাঁ শহরের লিটন ব্রিজের পাশে অবস্থিত স্বাধীনতা ভাস্কর্য। এ ভাস্কর্যের পাশে একটি কাঁঠাল গাছ, সাতটি আম গাছ এবং রাস্তার বিপরীত পাশে বটতলায় একটি মাঝারি পাইকর গাছসহ ৯টি গাছ রয়েছে। গত দুই মাস থেকে এসব গাছে আশ্রয় নিয়েছে চড়ুই পাখি। এখন এ স্থানটি ‘পাখি বাড়ি’ নামে পরিচিত। পাখি বাড়ি যেন পাখিদের নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে।

প্রতিদিন বিকেলে ও ভোরে গাছে গাছে পাখির কিচির মিচির শব্দ জানিয়ে দেয় তাদের সরব উপস্থিতি। এদের সংখ্যা প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজারের মতো হবে। চার পাশের গাছগুলো দখলে নিয়েছে তারা। পাখিদের কিচির মিচির শব্দ শোনার জন্য এবং তাদের রাতে গাছের ডালে ডালে ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্য দেখার জন্য মানুষের কৌতূহলও অনেক। শুধু গাছের ডালেই নয়, গাছের নিচ দিয়ে থাকা বৈদ্যুতিক ও ডিসের লাইনের তারেও তাদের আশ্রয়।

Bird

প্রতি বছরের এ সময় চড়ুই পাখি ঝাঁক বেঁঁধে এ পাখি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। মাস চারেক থাকার পর আবার উধাও হয়ে যায়। বিকেল থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত থাকার পর তারা খাবারের জন্য বেরিয়ে পরে। আবার ফিরে আসে বিকেলে। যখন ফিরে আসে তখন তাদের কিচির মিচিরে মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক।

পাখিদের কিচির মিচির শোনার জন্য এবং রাতে গাছের ডালে লেপ্টে থাকা পাখিদের ঘুমিয়ে থাকার মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য স্থানীয়রা ভিড় জমান। আশপাশ থেকে ছুটে আসছেন লোকজন। তবে অনেকে এসব পাখি ছিটকা দিয়ে মারার জন্য এবং তাদের তাড়িয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে।

পাখি বাড়ির পান ও বিড়ি দোকানদার রেজা জানান, বছরের এ সময়ে এসব চড়ুই পাখি এসে মাস তিনেক থাকে। কিছুদিনের মধ্যে হয়তো পাখিগুলো আবারো চলে যাবে। গত পাঁচ বছর থেকে দেখে আসছি চড়ুই পাখিদের আসা-যাওয়া।

Bird

ফলের দোকানদার আব্দুল বারিক ও কাশেম আলী জানান, হঠাৎ করেই এসব পাখিদের আগমন ঘটেছে। ঝাঁক বেঁধে পাখিদের উড়ার দৃশ্য দেখতে এবং প্রতিদিন বিকেল ও ভোরে কিচির মিচির শব্দ শুনতে ভালো লাগে। চোখের সামনে যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে মারতে ও তাড়িয়ে দিতে দেই না।

স্থানীয় মিজানুর রহমান জানান, পাখিরা প্রকৃতির ইচ্ছায় আসে, আবার চলেও যায়। যেখানে তাদের নিরাপদ স্থান মনে করে সেখানে তারা আশ্রয় নেয়। পাখিদের রাতে ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্য দেখার জন্য অনেকে আবার তাদের বাচ্চাদের নিয়ে আসছেন।

পাখি বাড়ির এমন দৃশ্য ক্যামেরায় এবং মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমনই একজন শামীনুর রহমান শামিম। ক্যামেরায় ছবি ধারণ করতে তার খুব ভাল লাগে। তার প্রচারণায়-পাখি বাড়ির দৃশ্যপট দেখতে চাইলে চলে আসুন। তবে সাবধান, এখানে এসে পাখিদের বিরক্ত করবেন না।

Bird

নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, পাখিকে তো সেখান থেকে তাড়ানো যাবে না। পাখির যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেটাও দেখতে হবে এবং স্থানীয়দের কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন বলে জানান।

আব্বাস আলী/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।