বরগুনায় এক বিপ্লবের প্রতারণার শিকার অর্ধশত নারী
ফুসলিয়ে যৌন হয়রানির পর গোপন ক্যামেরায় অন্তত অর্ধশত নারীকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার এক বিকৃত যুবক বিপ্লব খানকে খুঁজছে পুলিশ। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের ৫০ থেকে ৬০ জন নারী বিপ্লবের এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যৌন প্রতারণার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিপ্লবকে গ্রেফতারে পাথরঘাটার নতুন বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযানের খবর পেয়ে এ সময় কৌশলে গা ঢাকা দেয় প্রতারক বিপ্লব।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক খানের ছেলে বিপ্লব খানের সঙ্গে পাথরঘাটা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুম হাওলাদারের মেয়ের বিয়ে হয় দু’বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই পাথরঘাটার নতুন বাজার এলাকায় ‘মা ডিজিটাল স্টুডিও’ নামে একটি স্টুডিও ব্যবসার আড়ালে বিপ্লব এসব যৌন প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে জানা গেছে, বিপ্লবের যৌন প্রতারণার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন বয়সী অন্তত অর্ধশতাধিক নারী। সম্প্রতি এ ধরনের কয়েকটি ভিডিও স্থানীয়দের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়লে লোকলজ্জার ভয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওইসব ভুক্তভোগী নারী ও তাদের স্বজনরা।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোপনে ধারণ করা একান্ত মুহূর্তের সেসব ভিডিও ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিপ্লব তার বন্ধুদের সঙ্গেও যৌনমিলনে বাধ্য করে অনেককে। ফাঁদে ফেলে শুধু যৌন হয়রানি নয়, ভিডিও ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওইসব নারীদের কাছ থেকে সে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকাও। শুধু কিশোরী বা গৃহবধূই নন, লম্পট বিপ্লবের বিকৃত লালসার শিকার হয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ নারীরাও। বিপ্লবের এসব যৌন প্রতারণার ২৭ জিবি (গিগা বাইট) ভিডিও এসে পৌঁছেছে জাগো নিউজের হাতেও।
ভুক্তভোগী এক কিশোরী (১৫) জানান, স্কুলের প্রয়োজনে ছবি তুলতে যান মা ফটো স্টুডিওতে। এসময় পরিচয় হয় লম্পট বিপ্লবের সঙ্গে। পরে তার মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে বিপ্লবের প্রেমে পড়ে যায় সে। এরপর একদিন ওই স্টুডিওতে ডেকে নিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করে বিপ্লব। পরে তার অগোচরে সেই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দিও করে। এরপর এই দৃশ্য ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে একধিকবার তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয় বলেও ওই কিশোরী জানায়।
ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ (২৩) জানান, তার ভিডিওটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর, তার সংসার ভেঙে গেছে। লজ্জায় বাড়ি থেকে বের হতেও পারছেন না তিনি। এখন আত্মহত্যা ছাড়া তার আর কোনো পথ নেই বলে জানান। সন্তানের সামনে এক মাকেও পাশবিক নির্যাতন করতে দ্বিধা করেনি বিপ্লব।
ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছবি তুলতে আসা এক গৃহবধূকে তার চার বছরের অবুঝ শিশুর সামনেই পাশবিক নির্যাতন করছে বিপ্লব। অনেক আকুতি-মিনতির পরেও শেষ রক্ষা হয়নি ওই গৃহবধূর।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে পাথরঘাটা শহরের নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপ্লবের কম্পিউটার জব্দ করে পুলিশ। এ সময় ওই কম্পিউটার থেকে বিভিন্ন বয়সের ভিন্ন ভিন্ন নারীর একান্ত মুহূর্তের অর্ধশত ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়। পরে বিপ্লবের বড় ভাই সাইফুলকে আটক করে তারা।
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, বিপ্লবকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ভুক্তভোগী পর্নগ্রাফি আইন-২০১২ এর কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, পাথরঘাটার বিপ্লবের এসব গোপন ক্যামেরার ফুটেজ যার কাছে পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/বিএ