আমিনুলকে আড়াই মাস আগে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারীরা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সম্প্রতি র্যাবের হাতে গ্রেফতার নব্য জেএমবি দম্পতির আমিনুল ইসলামকে (৩৪) আড়াই মাস আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
পরিবারের দাবি, শেরপুরে নালিতাবাড়ীর নন্নী বাজারের নিজের ওষুধের দোকান থেকে সাদা পোশাকধারী লোকজন একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।
শনিবার দুপুরে নন্নী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় আমিনুলের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও মা আম্বিয়া বেওয়া এবং বোন হাজেরা বেগম এ দাবি করেন।
আমিনুলের বড় বোন নন্নী ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার হাজেরা বেগম বলেন, আমিনুলের দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনাটি সাজানো। আড়াই মাস পর আমিনুলের সন্ধান পেয়ে এখন অস্বস্তি আরো বেড়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ২৩ জুন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে নন্নী বাজারে ওষুধের দোকান থেকে আমিনুলকে কালো গ্লাসের সাদা রঙের (ঢাকা মেট্রো-৫২-৭২৩৩) নম্বরের একটি মাইক্রোবাসে করে আসা সাদা পোশাকধারী ৭-৮ জনের একটি দল তাকে গাড়িয়ে তুলে নিয়ে যায়।
ওই সময় বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে নিজেদের র্যাবের লোক বলে পরিচয় দিলেও পরে থানা পুলিশ, র্যাব জামালপুর-১৪ সহ র্যাবের সদর দফতরে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
আমিনুলের সন্ধান না পেয়ে গত ২৯ জুন রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় ভাই মো. আবু হারেজ আমিনুলকে দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে গেছে উল্লেখ করে নালিতাবাড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর থেকে আমিনুল নিখোঁজ ছিলেন।
আমিনুলের দীর্ঘদিন সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী পারভীন আক্তার, মা আম্বিয়া বেগম, দুই শিশু সন্তান ফাহিম ও ফায়সালসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। অবশেষে ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকা থেকে র্যাবের হাতে নববধূ নাহিদ সুলতানাসহ আমিনুলকে গ্রেফতার করার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারে পরিবার।
শনিবার আমিনুলের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, আমার স্বামী জেএমবি কিংবা জঙ্গি কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। সে আর কোনো বিয়েও করেনি। সাড়ে নয় বছর ধরে এক সঙ্গে ঘর করছি। আমাদের দুটি সন্তান। কোনো দিন তার অন্যরকম কিছু দেখিনি।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফসিহুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিখোঁজ আমিনুলই নারায়ণগঞ্জে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া আমিনুল। বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয় ভাই দুই বোনের মধ্যে আমিনুল সবার ছোট। বাবা নেই। বড় দুই ভাই শিক্ষকতা করেন। দুই ভাই ডেকোরেটর দোকান চালান, আরেক ভাই কৃষিজীবী। সবাই পৃথকভাবে সংসার চালান।
আমিনুল নন্নী বাজারে ওষুধের দোকান দেন। তবে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে জেএমবি এবং আইএসের কর্মকাণ্ড সমর্থন করতেন বলে জানায় স্থানীয়রা। তাছাড়া জিহাদি আলাপ-আলোচনা করতেন এবং ইন্টারনেটে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়েও অনেককেই অবহিত করেছেন। কিন্তু আমিনুলের গতিবিধি সাবধান করা ছাড়া তারা আমিনুলের জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা কখনই ভাবেননি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তার ভাই আবু জাফর আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও পরিবারের অন্যরা বিএনপি সমর্থক বলে জানায় স্থানীয়রা।
এদিকে, শনিবার দুপুরে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় র্যাবের দায়ের করা মামলায় পুলিশি রিমান্ডে থাকা আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তার শ্যালক মো. শহীদ সাক্ষাৎ করেছেন।
মুঠোফোনে কথা হলে শহীদ জানান, আমিনুলের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার স্বাস্থ্য এতটাই খারাপ হয়েছে যে তাকে দেখে চেনা কষ্টকর। খুব বেশি কথা না হওয়ায় তার কাছ থেকে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শেষ হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এএম/এমএএস/আরআইপি