বন কর্মকর্তাকে শাসালেন এমপি কমল


প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

রামুর হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের জমি দখল করে তৈরি করা দোকানঘর উচ্ছেদ করায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কক্সবাজার দক্ষিণকে শাসালেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।

রোববার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে বনবিভাগ এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চালান। ফেরার পথে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় সংসদ সদস্য অভিযানকারীদের গাড়ি থামিয়ে ডিএফওকে শাসিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেন বলে জানান ডিএফও মুহাম্মদ আলী কবির।  

তারা আসার পর অস্ত্রধারী ভূমিদস্যুরা হিমছড়ি এলাকায় পাহারায় থাকা বনকর্মীদের হামলার চেষ্টা চালায়। ভয়ে তারা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে আশ্রয় নেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্বশস্ত্র দুই বনপ্রহরীকে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে খবর এলেও সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে র্যাব যাওয়ার পর তাদের পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন হিমছড়ি বিট কর্মকর্তা হান্নানুজ্জামান।

অন্যদিকে, তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করে চাঁদাদাবির অভিযোগ তুলে ডিএফওর প্রত্যাহার দাবি করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে দখল এলাকার দোকান মালিকরা।

cox

রামু উপজেলার হিমছড়ি বনবিট কর্মকর্তা হান্নানুজ্জামান জানান, ১২ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে ভূমিদুস্যরা হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের বনভূমি দখল করে ১৩টি দোকানঘর নির্মাণ করে। ঈদের ছুটি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের সহযোগিতায় রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরো বলেন, অভিযানের এক পর্যায়ে দখলদার ইউপি সদস্য মো. কামাল ওরফে ম্যাগনেট কামালের নেতৃত্বে শতাধিক অস্ত্রধারী অভিযানকারীদের ধাওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখে তারা সামনে না আসলেও ফেরার পথে দরিয়ানগর এলাকায় সাংসদ কমল তাদের গাড়ি থামান। এসময় তিনি ডিএফও আলী কবির তাকে (এমপিকে) না জানিয়ে দোকানপাট উচ্ছেদের কৈফিয়ত চান।

সরকারি দায়িত্ব পালন করা হয়েছে বলার পর কাজটি ভালো হয়নি উল্লেখ করে ডিএফওকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, তারা চলে আসার পর হিমছড়ি এলাকায় ভূমিদস্যুরা জড়ো হয়ে বনপ্রহরী আবুল খায়ের ও জমির আলীকে হামলা করতে চেষ্টা চালান। তারা ভয়ে পাহাড়ে ঢুকে পড়েন। এর মধ্যে বনপ্রহরী আবুল খায়েরের কাছে সরকারি অস্ত্র ছিল।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলী কবির তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঈদের ছুটিতে দখল হয়ে যাওয়া বনভূমি দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক রাসেলের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু ফিরে আসার পথে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে একজন সংসদের এমন আচরণ সত্যি বেদনাদায়ক। এসব ঘটনা সংশ্লিষ্টে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এদিকে, উচ্ছেদের পরপরই ওই স্থানে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে দোকান মালিক সমিতি। এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলমসহ অন্যান্যরা।

হিমছড়ি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি স্থানীয় খুনিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ জানান, ডিএফও আলী কবিরের পক্ষে বিট কর্মকর্তা প্রতিটি দোকান থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করে। উৎকোচ না দেয়ায় অভিযান চালিয়ে দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করেছে।

তিনি আরো বলেন, উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ ডিএফও আলী কবিরকে বদলী করা হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।