সন্তানের নাম রেখে যেতে পারলেন না হায়দার
গোলাম হায়দার (৩৮) বরগুনা সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও বাসচালক। প্রীয়তমা স্ত্রী শাহিনুরের (৩০) প্রসব বেদনার খবর শুনে রোববার দুপুরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে তার স্ত্রী জন্ম দেয় এক ফুটফুটে পুত্রসন্তানের। খুশিতে আত্মহারা হায়দার উপস্থিত সবাইকে তখনই মিষ্টিমুখ করান।
এরপর সদ্য ভূমিষ্ট পুত্রসন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাতে বাড়িতে যান হায়দার। পরদিন সকালে এসে ছেলের নাম রাখবেন ‘আকাশ’। এরপর বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন তিনি।
বিকেলে গোলাম হায়দারের মেয়ে খাদিজা আক্তার (১৪) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘বাবা আমার নতুন ভাইয়ের নাম রাখতে চাইছিল আকাশ। নাম না রাইখাই চইলা গ্যালো।’ এই বলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে।
হায়দারের ছেলে মিরাজ (১৮) বলে, ‘ছোট ভাইডারে আব্বায় হাফেজ বানাইতে চাইছিল। আব্বায় ওরে হাফেজ বানাইন্নার (বানানোর) সময়ই পাইলো না। কারা আমার আব্বরে মারলো। আমার আব্বায়তেরা কারো ক্ষতি করে না।’
বিকেলে শ্রমিক নেতা হায়দারের ওপর হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক। এসময় তিনি বলেন, হায়দার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আর এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, রোববার রাত সাড়ে ৮টায় বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমলকিতলা গ্রামে শ্রমিক নেতা গোলাম হায়দারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এরপর তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এআরএ/এমএস