কাকা মোরে আর মাইরেন না


প্রকাশিত: ০২:৫৫ এএম, ০১ অক্টোবর ২০১৬

কাকা মোরে আর মাইরেন না, ব্যথায় মাথা ধরে গেছে, মুই মইর্যা যামু। ঝালকাঠি জেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করার অপরাধে স্কুলছাত্র সাব্বিরকে (১০) এভাবেই বেধড়ক মারধর করেন। এমনকি মারধর করার এক পর্যায়ে তার ডান হাতের নখ তুলে ফেলেন।

শুক্রবার দুপুরে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রতিবেদকের সঙ্গে এমন অমানবিক কাহিনীর বর্ণনা করে।

সাব্বির স্থানীয় কুতুবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। সে জেলা পরিষদ এলাকার সবজি ব্যবসায়ী নূরে আলম খানের ছেলে।

সাব্বির আরো জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে জেলা পরিষদ পুকুরে গোসল করতে যাই। এ সময় জেলা পরিষদের সিএ সালাহউদ্দিন একটি লোহার স্কেল দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে ডান হাতের একটি আঙ্গুলের নখ উঠে যায় এবং কেটে ক্ষত হয়। মারধরের ফলে ব্যথায় সমস্ত শরীর ধরে যায়।

অনেক হাত পা ধরেছি কাকা আর মাইরেন না, মইরা যামু। তারপরও তিনি মারতে মারতে শুইয়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে উঠে মাথা ঘুরানো অবস্থায় দৌড় দেই।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক হাসান মাহমুদ জানান, সাব্বিরকে মারধরের কারণে ডান হাতের আঙ্গুল ফেটে যায়। এছাড়াও ওর সমস্ত শরীরে ব্যথা রয়েছে। চিকিৎসা চলছে, আশা করি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।

মারধর ও নখ তুলে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ঝালকাঠি জেলা পরিষদের সিএ মো. সালাহউদ্দিন জানান, সাব্বির প্রায়ই গোসল করার পরে জেলা পরিষদের মধ্যে রোপণ করা ফুলের চারা চুরি করে নেয়। এজন্য তাকে জেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তারপরও সে গোসল করতে আসলে তাকে শাসিয়ে দেয়া হয়েছে।

আহত শিশুর বাবা নূরে আলম জানান, সদর হাসপাতালে সাব্বিরের চিকিৎসা চলছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হবে।

আতিকুর রহমান/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।