ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবার মডেল টাঙ্গাইল ইউএনও অফিস
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে নাগরিক সেবার এক মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিক সমস্যা সমাধান ও সেবা গ্রহীতাদের জন্য নেয়া হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ।
একটা সময় দিনের পর দিন ঘুরতে হতো বিভিন্ন ভাতাসহ নানা কাজে। এখন অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাচ্ছে গ্রাহকের কাছে সেবা। ডিজিটালাইজ পদ্ধতিতে মনিটরিং করা হচ্ছে অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাজকর্মও।
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সেবা পেতে এখন কোনো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না গ্রাহকদের। এতে করে দূর হয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতিও। এই পদ্ধতি এখন হতে পারে সারাদশের মডেল।
উপকার ভোগীদের দাবি, সারাদেশে বিভিন্ন অফিসে মানুষকে সেবা নিতে যখন হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার আর দেশের ঠিক সেই মুহূর্তেই টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেয়া হচ্ছে ভুক্তভোগীদের ব্যতিক্রম সেবা। যা সারাদেশের জন্য একটি মডেল।
এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসা কয়েকজন উপকারভোগী জানান, প্রত্যেক সেবাগ্রহীতা অফিসে এসেই হেল্প ডেস্কের সহযোগিতায় পৌঁছে যাচ্ছেন নির্দিষ্ট কক্ষের কর্মকর্তার কাছে। সেবাগ্রহণকারীরা কয়েক মিনিটেই কাজ শেষ করে চলে যাচ্ছেন নিজ বাড়িতে। নাগরিকের সকল সমস্যা সমাধানে সেবা জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য স্থানীয় উদ্ভাবক সকল উপজেলা কর্মকর্তাদের নিয়ে এক যোগে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান।
এ সময় রফিক, কেরামত ও সফি নামে কয়েকজন ব্যক্তি জানান, উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে গণশুনানি করে জনগণের সেবা দেয়ায় এখন পাল্টে গেছে উপজেলা কার্যালয়ের অনেক চালচিত্র। ইউএনও অফিসের ডিজিটাল সেন্টার থেকে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে গনশুনানি করে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান। প্রতিটি ইউনিয়নে বাল্যবিয়ে রোধকল্পে চলছে সভা-সেমিনার ও উঠান বৈঠক।
ডিজিটালাইজ পদ্ধতিতে প্রত্যেক কক্ষের নজরদারি করাসহ বিভিন্ন কক্ষ জনগণের সেবামুখী করে সাজানো হয়েছে। এছাড়া পুরাতন ফাইল খুঁজতে গেলেও আর কাউকে হয়রানির শিকার হতে হবে না বলে জানান তারা।
এর ফলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুর্নীতি ও অনিয়মও বন্ধ হয়ে গেছে। কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ এলে তার বিরুদ্ধেও নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ জনগণ সহজেই সেবা গ্রহণ করতে পারছে।
টাঙ্গাইল উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ব্যতিক্রম সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান বলেন, নাগরিক সমস্যা সমাধান ও সেবা জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে অফিসারদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয়ভাবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাল্যবিয়ে রোধকল্পে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
শুধু তাই নয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা দিচ্ছি। এখানে রেকর্ড রুম ছিলো না তা আমরা তৈরি করেছি। যা থেকে জনগণ যেকোনো সময় তার তথ্য নিতে পারবে খুব সহজে। সিটিজেন চার্টার তৈরি করেছি যা দিয়ে জনগণ জানতে পারবে তারা এখানে কি কি সেবা পাবে?
জনগণের দৌড়গোড়ায় সেবা পৌচ্ছে দেয়ার মনোভাব কিভাবে জাগলো এমন প্রশ্নে তিনি বললেন, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে যখন ভাবি তখনই মানুষের জন্য ভাল কিছু করার চিন্তা আসে। সেই থেকেই এ ধরনের কাজের প্রেরণা।
ডিজিটাল পদ্ধতির সহজ উপায়ে উপজেলার নাগরিক সমস্যা সমাধান সারাদেশে জনগণের সমস্যার সমাধান করা হলে কমে যাবে মানুষের দুর্ভোগ। উপজেলাগুলো সেবামুখী হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকল নাগরিকের।
আরিফ উর রহমান টগর/এসএস/আরআইপি