অর্থাভাবে তিন শিশুর দুইজন মারা গেছে


প্রকাশিত: ০৫:১৫ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন শিশুর মধ্যে উন্নত চিকিৎসার অভাবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখন এক সন্তানকে বাঁচাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আকাশ-পাপিয়া দম্পতি।  

ওজন কম থাকায় তিন সন্তান ঝুঁকিতে থাকায় সোমবার রাতে এক সন্তান ও মঙ্গলবার ভোরে আরেক সন্তানের মৃত্যু হয়। তিন ছেলে জন্মের পরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু আর্থাভাবে তাদের চিকিৎসা করাতে না পারায় দুই সন্তানের মৃত্যু হলো।

এর আগে, সাঘাটা উপজেলার ভরতখালি ইউনিয়নের ভাঙ্গামোড় গ্রামের আকাশ মিয়ার স্ত্রী পাপিয়া বেগম শনিবার দুপুরে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিকভাবে এক সঙ্গে তিন ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। পাপিয়া নবজাতক এক ছেলে সন্তান নিয়ে সাঘাটা উপজেলার ঝড়াবর্ষা গ্রামের বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় ও পাপিয়ার পারিবার সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ঝড়াবর্ষা গ্রামের আবদুল কাফি মিয়ার মেয়ে পাপিয়ার সঙ্গে দেড় বছর আগে আকাশ মিয়ার বিয়ে হয়। আকাশ ঢাকায় রিকশাভ্যান মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

বিয়ের পর পাপিয়া বেগম আকাশের বাড়িতে থাকতো। পাপিয়া অন্তঃসত্ত্বা হলে কয়েক দিন আগে বাবার বাড়িতে যান। গত শনিবার সকালে হঠাৎ করে পাপিয়া বেগমের প্রসববেদনা উঠলে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে দুপুরে পাপিয়া স্বাভাবিকভাবে তিনটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।

তিন নবজাতকের বাবা আকাশ মিয়া বলেন, হাসপাতালে জন্ম হওয়া তিন ছেলে সন্তানের ওজন কম থাকায় বিকেলে চিকিৎসক তাদের গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু সেখান থেকে তাদের রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Gaibandha

সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তিন সন্তানকে বাঁচাতে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে রোববার বিকেলে ঝড়াবর্ষা গ্রামে পাপিয়ার বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

তিনি আরো বলেন, প্রথমবারের মতো একসঙ্গে তিন ছেলে সন্তান পেয়ে খুশি হলেও দুশ্চিন্তা চোখে মুখে। কারণ চিকিৎসকরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন। কিন্তু অর্থ না থাকায় তাদের ঢাকায় নিয়ে যেতে পারি নাই।

চিকিৎসার অভাবে দুই ছেলে সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এখন এক ছেলেকে বাঁচাতে পারবো কিনা আল্লাহ ভালো জানেন? ঢাকায় যা আয় করি তা দিয়ে সংসারই চলে না। তাই এক ছেলেকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।  

এক সঙ্গে কোলজুড়ে তিন ছেলে পাওয়ার আনন্দের অনুভূতি জানিয়ে মা পাপিয়া বেগম বলেন, চেয়েছিলাম একটি, কিন্তু আল্লাহ আমাকে তিনটি সন্তান দিয়েছিলেন। উন্নত চিকিৎসা না করায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন সবার কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ এক ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নবজাতক দুজনের ওজন এক কেজি করে এবং অপর নবজাতকের ওজন ৭০০ গ্রাম ছিল। ওজন কম থাকায় তারা ঝুঁকিতে ছিল। উন্নত চিকিৎসার অভাবে দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবার চাইলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বেঁচে থাকা শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।