ঠাকুরগাঁওয়ে আ.লীগের দুঃসময়ের কান্ডারি সাদেক কুরাইশী


প্রকাশিত: ০৬:৪৮ এএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৬

প্রথমবারের মতো নতুন পদ্ধতিতে হতে যাওয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন এবারের প্রশাসক, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন জেলাবাসী। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি জেলা পরিষদের নির্বাচন বর্জন করলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারি মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী।

ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত তিনি। করেছেন ছাত্র রাজনীতি, দল সুসংগঠিত করার পাশাপাশি কাঙ্খিত লক্ষ্যেও নিয়েছেন দলকে। নজর কেড়েছেন দলের শীর্ষ নেতাসহ নেত্রী শেখ হাসিনার। তিনি আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবীদ। জেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী।

১৯৬০ সালের ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ইসলাম নগর খানকা শরীফে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছেন ইসলাম নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম শ্রেণি পড়েছেন বর্তমান ঠাকুরগাঁও সরবকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এরপর ১৯৭৫ সালে ইসলাম নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন তিনি। ১৯৭৭ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭৯ সালে বিএ পাস করেন মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী। সরকারি কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।  

১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের সামরিক আইন জারির সময় গণতন্ত্রের জন্য ছাত্রদের সুসংগঠিত করে সভা, সমাবেশ মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন সংগ্রামও লিপ্ত ছিলেন তিনি। সেই সময়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ায় আন্দোলনে আরো কার্যকরী হন মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী। আন্দোলনের পর পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ।
 
১৯৮২ থেকে ৮৩ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ১৯৮৪-৮৬ সাল পর্যন্ত জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন তিনি। পরে স্থান পান জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে। ১৯৯১ সালে দায়িত্ব পান প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের।

এরপর ১৯৯৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে দলীয় কোন্দলে দল জড়িয়ে পড়ে জেলা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্র থেকে ভেঙে দেয়া হয় কমিটি। সেই সময় ছিল দলের দুঃসময়। দলের ভার পড়ে যায় তার কাঁধে। সাদেক কুরাইশী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদে থেকে কোন্দল দূর করে দলকে সুসংগঠিত করেন।

২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসায় সংকট পর করে দল। বিরোধী দলে থাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জামায়াত-বিএনপি সরকারের নানা নির্যাতন সহ্য করেছেন।

২০০৫ সালের দলীয় কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাদেক কুরাইশী। সভাপতি নির্বাচিত হন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।

সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের নেতৃত্বে জেলা কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় সাধারণ সম্পাদক সাদেক কুরাইশীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধায় পরবর্তী ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সদর আসনসহ তিনটি আসনেই লুফে নেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীকে হারিয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি নির্বাচিত হন। আর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মির্জা ফখরুল পান ১ লাখ ২০ হাজার ভোট।

তার রাজনৈতিক উত্থান কোনো গল্প নয়, ইতিহাস। নিরলস ও কঠোর পরিশ্রমে আজ দল গোছানো। নিজের স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজ ধরে রেখে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রাজনীতিবীদ হিসেবে।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বে পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন সাদেক কুরাইশীকে। নিয়োগ প্রাপ্তির পর জেলা পরিষদ সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা পাল্টিয়ে ইতিবাচকে নিয়ে এসেছেন। দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জেলার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ম্যুরাল ও স্মৃতিফলক স্থাপন করেছেন জেলা পরিষদ থেকে।

শেখ হাসিনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তিনি জেলা পরিষদ ও জেলা আওয়ামী লীগকে যে ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার দৃষ্টান্ত তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সদর উপজেলার ২১ ইউনিয়নের মধ্যে ১৫টি আওয়ামী লীগ মনোনীত, দুইটিতে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়াও বালিয়াডাঙ্গীতে ৮টি ইউনিয়নে, পীরগঞ্জ উপজেলায় ৫টি আওয়ামী লীগ-বিদ্রোহী ২টি, রানীশংকৈলে ৫টি আওয়ামী লীগ ও হরিপুরে ৪টি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

যা স্বাধীনতা পরবর্তী এটাই বড় ধরনের পাওয়া। সাদেক কুরাইশী জেলার ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে।  

সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য নির্মূলে দলীয় অবস্থানে থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত দুর্গ গড়ে তুলেছেন তিনি। সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। করেছেন সচেতনতা বৃদ্ধি। এতে জেলায় বিএনপির আন্দোলনে তোমন সফলতা আনতে পারেনি।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক কুরাইশী বলেন, কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিএনপি রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের জ্বালাও-পোড়াও ও জঙ্গিবাদের রাজনীতিতে জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। জেলার বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছেন। অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগদানের জন্য যোগাযোগ করছেন বলে জানান তিনি।

সাদেক কুরাইশী আরো বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ সুদৃঢ়। তার দিক নির্দেশনায় দলকে সংগঠিত করেছি। এ জেলা এখন আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত হয়েছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের ২৮ তারিখের জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এসময় তিনি ঠাকুরগাঁওকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
 
উল্লেখ্য, সাদেক কুরাইশী ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ দিনের সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘের ৬৫তম সাধারণ পরিষদে যোগ দেন। ২০১৫ সালেও কোরিয়া ও চীনে সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ পান। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সফরে যাওয়ারও আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি।

রবিউল এহসান রিপন/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।