গাইবান্ধার রিনার খোঁজ মিললো দিল্লিতে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে এক বছর আগে নিখোঁজ হওয়া রিনা খাতুনকে (১৮) অবশেষে ভারতের দিল্লি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামের (বিপিএম, সেবা) বিশেষ উদ্যোগে ভারতের দিল্লি থেকে যশোর পুলিশের সহায়তায় রিনা খাতুনকে শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়।
এরপর শনিবার রাতে রিনাকে সুন্দরগঞ্জ থানায় নেয়া হয়। সেখানে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের উপস্থিতিতে বাবা-মার হাতে তুলে দেয়া হয় রিনাকে।
এ সময় থানা চত্বরে এক মর্মস্পর্শী ঘটনার সূত্রপাত হয়। এতোদিন পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে বাবা-মা বাকরুদ্ধ হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রিনা খাতুনও বাবা-মাকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলেন। মেয়েকে উদ্ধার করে দেয়ায় রিনার বাবা-মা পুলিশ সুপারসহ পুলিশ বিভাগের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
রিনা খাতুন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের দিনমজুর মো. ইয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর রিনা খাতুন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।
রোববার দুপুরে রিনা খাতুন এক বছরের করুণ কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, বাড়ির কাউকে কিছু না বলে এক বছর আগে ঢাকার বৌবাজারে একটি সুতা কারখানায় চাকরি নেন। সেখানে গ্রামের পূর্বপরিচিত লোকজনের সঙ্গে একটি মেসে থেকে চাকরি করেন।
এখানে হাসান নামের এক ছেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। হাসান তাকে বেশি টাকা বেতনের কাজ পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখান। পরে ট্রেনে হাসানের দেয়া খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এভাবে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসান তাকে ভুল তথ্য দিয়ে ভারতীয় নাগরিক তরুণ নামে এক ব্যক্তির কাছে তুলে দিয়ে উধাও হয়ে যান।
রিনা খাতুন আরো জানান, ভারতীয় নাগরিক তরুণ তাকে জানান, হাসানের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় তিনি তাকে কিনে নিয়েছেন। ওই তরুণ তাকে দিয়ে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত করেন। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দিল্লির এক পানি বিক্রেতার সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামের (বিপিএম, সেবা) জানান, হঠাৎ একদিন ভারতের দিল্লির সানলাইট পুলিশ স্টেশন থেকে মোবাইলে ফোন আসে। পরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের রিনা খাতুনকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জের ওই মেয়েটি এক বছর আগে নিখোঁজ হয়। পরে মেয়েটিকে ফেরত পাঠাতে দিল্লি পুলিশকে অনুরোধ করা হয়। ডিএনডাব্লিউএল নামের একটি স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার সহায়তায় রিনা খাতুনকে দিল্লি থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরো জানান, যশোর পুলিশ মেয়েটিকে গাইবান্ধায় নিয়ে আসেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুন্দরগঞ্জ থানা থেকে শনিবার রাতে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের উপস্থিতিতে বাবা-মার কাছে রিনা খাতুনকে হস্তান্তর করা হয়।
জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম