ডাক্তারের অভাবে সিজার বন্ধ ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কেন্দ্রে
ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার ক্লিনিকসহ ৩টি পদ দুই বছর ধরে শূন্য থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গর্ভবতী মায়েরা।
পাশাপাশি প্রতিমাসে আউটডোরে আসা দুই সহস্রাধিক রোগী গত দুমাস ধরে ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। এতেও বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই গর্ভবতী মা ও শিশু রোগীদের। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং শূন্যপদে ডাক্তার আসলেই আগের মতো সেবা পাবে রোগীরা।
শহরের প্রাণকেন্দ্র পৌরসভার সামনেই অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ২০ শয্যার এ কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়ের সব ধরনের সেবা, সাধারণ ও সিজারিয়ান প্রসব সেবা দেওয়া হয়।
এছাড়াও শিশু পরিচর্যা, প্রজননতন্ত্র সংক্রামক সেবা, যৌনবাহিত রোগী, কিশোরী সেবার পাশাপাশি পুরুষ ও নারীদের স্থায়ী পদ্ধতি, আইইউডি, ইনজেকশন, ইমপ্লান, খাবার বড়ি, কমডম, ভায় ও এমআর সেবা দেওয়া হয় এ কেন্দ্র থেকে।
ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর এমও ক্লিনিক ডা. নাসিমা আক্তার জাহান পদন্নোতি পায়। এর ফলে দুই বছর ধরে এ পদটি শূন্য ছাড়াও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা, সহকারী নার্সিং এটেনডেন্ট পদ শূন্য দীর্ঘদিন। ফলে এ কেন্দ্রে সিজারিয়ান কাজ প্রায় বন্ধ।
পদন্নোতি পাওয়া সাবেক মেডিকেল অফিসার ক্লিনিক ডা. নাসিমা আক্তার তার নিজ ইচ্ছায় শুধুমাত্র গরীব গর্ভবতী মাদের সিজার করছেন।
চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ১৪০ জনের সিজার জনিত প্রসব হলেও জুলাই ও আগস্ট মাসে সিজার হয় মাত্র ৩০ জনের। আর এ কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবে প্রতিমাসে প্রসব হচ্ছে ১শ থেকে ১২০ জন পর্যন্ত।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নার্সরা জানান, ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এমও ক্লিনিকের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাজে কিছুটা ভাটা পড়েছে। যে কয়টা সিজার হচ্ছে শুধুমাত্র ডা. নাসিমা আক্তারের নিজ ইচ্ছায়।
সিজারিয়ান রোগী ছাড়াও এ কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন সেবা নিতে আসে প্রসবত্তোর গর্ভবতী, কিশোরী সেবা, শিশু পরিচর্যার কয়েকশ রোগী। গত দু’মাস ধরে এ কেন্দ্রটিতে বহির্বিভাগের রোগীরা ওষুধ সঙ্কটে ভুগছে। এতে রোগীদের শুধুমাত্র ব্যবস্থাপত্র ছাড়া আর কিছুই দিতে পারছেনা। ফলে রোগীদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও আকচা এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা আকলিমা আক্তার বলেন, হামরা গরিব মানুষ, টাকা নাই ওষুধ কিনিবার। তাই এইঠে আইসচি। কিন্তু এইঠেও ওষুধ নাই।
শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার নুরজামান বেগম বলেন, আমি গর্ভবতী হওয়ার পরে প্রতিদিন এখানে সেবা নিতে আসি। নিয়মিত চেকআপ করাই। কিন্তু এখানে বাচ্চা প্রসব করানো হবে না আমার। সিজারের জন্য ডাক্তার নাই। তাই বাহিরে বেশি টাকা দিয়ে সিজার করাতে হবে আমাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নার্স বলেন, নিয়মিত অনেক গর্ভবতী নারী আসে সেবা নেওয়ার জন্য। আমরা সেবা দিতে পারি। কিন্তু ওষুধ দিতে পারি না। খুব খারাপ লাগে রোগীদের ফেরত দিতে। আবার অনেকের সিজারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সিজার করাতে পারছিনা ডাক্তারের অভাবে। ডাক্তার আর ওষুধ জলদি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।
ঠাকুরগাঁও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক তারিকুল ইসলাম চিকিৎসক ও ওষুধ সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে ওষুধের সরবরাহ পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীদের ওষুধ দেয়া হবে। আর এমও ক্লিনিকের পদ অচিরেই পূরণ হবে বলে জানান তিনি।
এমএএস/আরআইপি