নওগাঁয় এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়


প্রকাশিত: ০৮:১১ এএম, ০২ ডিসেম্বর ২০১৬

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে কোনো রসিদও দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, বোর্ডের নিয়মে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ফরম পূরণে ১ হাজার ৪৮৫ টাকা ও মানবিক বিভাগ থেকে ১ হাজার ৩৮৫ টাকা এবং উভয়ের কেন্দ্র ফি বাবদ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো রসিদ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন।

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া কোচিং ফি বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা র্নিধারণ করা হয়েছে। এমনকি প্রবেশপত্র নেয়ার সময় বাণিজ্য করা হতে পারে বলেও জানা যায়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য স্কুল থেকে ১১০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫১ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৫৮ জন এবং মান উন্নয়ন ১ শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলেন, এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে। টাকা আদায়ের কোনো রসিদও দেয়া হয়নি। অভাবের সময় কষ্ট করে ছেলের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণে টাকা দিয়েছি। যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা দেয়ার মতো। অতিরিক্ত টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

টাকা উঠানোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি যা নির্দেশ করেন, আমাদের সেটা করতে হয়। কিছু রসিদ দেয়া হয়েছে, কিছু হয়নি। বিজ্ঞান বিভাগের ছয়জন ২ হাজার ২০০ টাকা করে এবং মানবিক বিভাগের ৯ জন ২ হাজার ১০০ টাকা করে দিয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীরা কিছু কম টাকা দিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুশান্তকুমার মুহরী বলেন, নিয়মমোতাবেক ফরম পূরণে টাকা নেয়া হয়েছে। কোনো বাড়তি টাকা নেয়া হয়নি। কোনো কোনো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কম টাকাও নেয়া হয়েছে। এছাড়া ভালো ফলের জন্য স্কুলে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হয়। তবে কোচিং বাবদ কোনো টাকা নেয়া হয়নি। সেটা পরে দেখা যাবে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম বলেন, খরচসহ কয়েক টাকা বেশি নেয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো টাকা বেশি নেয়া হয়নি এবং সঠিক নিয়মে ফরম পূরণ হয়েছে। তবে এবার ফরম পূরণে বিদ্যালয় লোকসানের মধ্যে পড়েছে। আর এ ক্ষতি বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকেই বহন করা হবে।

মহাদেবপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ জানা নেই। তবে অভিভাবকেরা যদি অভিযোগ দেন, তাহলে তারা ন্যায়বিচার পাবেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/এফএ/এনএইচ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।