যশোরে আ.লীগের প্রতিপক্ষ আ.লীগ : দ্বন্দ্বের শঙ্কা


প্রকাশিত: ০৭:৩১ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬

যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে শীর্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলেও লড়াই হবে বাকি ২০টি পদে। শীর্ষ পদ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত শাহ হাদিউজ্জামান একক প্রার্থী হওয়ায় তিনি বিজয়ের পথে রয়েছেন। তবে সাধারণ সদস্যের ১৫ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের ৫টি পদে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগই।

প্রতি ওয়ার্ডেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মনোনয়ন জমা দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন করে মাথাচাড়া দেবে বলে মনে করছেন কর্মীরা।

সূত্র মতে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে শাহ্ হাদিউজ্জামান দলের মনোনয়ন পান। এ পদে নিজ দল কিংবা অন্য দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

তবে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এ নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়া মোট ৬৯ জনই আওয়ামী লীগের। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হবে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের।

নির্বাচন অফিস সূত্র মতে, সাধারণ সদস্যের এক নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শার্শা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা অহিদুজ্জামান ও যুবলীগ নেতা সাইদুজ্জামান।

দুই নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ওয়াহিদুজ্জামান, ইব্রাহীম খলিল, কবীর উদ্দীন আহমেদ ও ইলিয়াস আজম শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইকবাল আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম ও মনিরুল ইসলাম। চার নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কামরুজ্জামান, মফিদুল ইসলাম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল বিদ্যুৎ ও হাবিবুর রহমান।

তারা নিজ নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। একই চিত্র পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডেও। এখানে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তৌহিদুর রহমান ও আনিসুর দেওয়ান। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ও ওয়াজির আলী।

সাত নম্বর ওয়ার্ডে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল খালেক, জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম আজাহার হোসেন স্বপনসহ চারজন প্রার্থী হয়েছেন। এভাবে ১৫টি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ।

অপরদিকে, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে এক নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সাহানা আক্তার ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী প্রার্থী হয়েছেন। দুই নম্বর ওয়ার্ডে নাজনীন নাহার, কামরুন নাহার ও শায়লা জেসমিনও আওয়ামী লীগের কর্মী।

তিন নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা জারিন রহমান ও জেলা যুবমহিলা লীগের হাজেরা পারভীন। একইভাবে চার নম্বর ওয়ার্ডের কাজী জলি আক্তার ও লায়লা খাতুন এবং পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী রুকসানা ইয়াসমিন, রাবেয়া খাতুনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সাধারণ ও মহিলা সদস্য পদে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অংশের হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। নির্বাচনেও তারা এই দুই অংশের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। ফলে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরণী দ্বন্দ্ব নতুন করে জেগে উঠবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন সাংবাদিকদের বলেন, বর্ধিত সভা করে তারা একক প্রার্থী করার চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দেওয়া গেলেও মেম্বার পদে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি।

মিলন রহমান/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]