নেত্রকোনা-৪

ভোটের মাঠে ‘অপ্রতিরোধ্য’ বাবর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি ও মদন উপজেলা। ‘বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও’ এই প্রবাদ হাওর পাড়ের মানুষের জন্য। বর্ষাকালে প্রকৃতি ধারণ করে মোহনীয় রূপ। গ্রামগুলোকে তখন মনে হয় ছোট ছোট দ্বীপ। আবার হেমন্তে পানি সরে গেলে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। প্রকৃতির এই সুন্দর হেঁয়ালিপনার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা। এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসন নেত্রকোনা-৪। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ভোটের লড়াই জমে উঠেছে।

আসনটিতে মোট ভোটারসংখ্যা তিন লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ জন। আসন ঘিরে রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ভোটের মাঠে তিনি শক্তিশালী প্রার্থী। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার, সিপিবির জলি তালুকদার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির চম্পা সরকার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুখলেছুর রহমান।

১৯৯১ সালে এই আসন থেকে প্রথমবার বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাবর। ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জায়গা করে নেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায়। ওই সময় তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। একই সময় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বাবরকে মনোনয়ন না দিলেও কারাগারে থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। এসময় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাবর, যেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অনেক পেছনে। পরে বিএনপি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলেও বাবর আর কেন্দ্রীয় বা জেলা বিএনপির কোনো পদ পাননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বাবর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসব মামলায় তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট।

কারাবন্দি থাকা অবস্থায় স্থানীয় বিএনপিতে বাবরের অনুসারীদের নেতৃত্ব দেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী। পরে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই বাবরকে এই আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন। একাধিক ভোটার বলছেন, বাবর এর আগে এমপি থাকাকালে এই এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন। আমরা এলাকার উন্নয়নের জন্য আবার তাকে সংসদে পাঠাতে চাই। আমরা কোনো মার্কা বুঝি না। আমরা বুঝি মার্কা মানেই বাবর। এই আসনে বাবরের জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ও এলাকায় ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক ও বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

জামায়াতের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার বলেন, ‘আমরা ভোটের মাঠে ভালো সাড়া পাচ্ছি। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম আওয়াজ তুলছে। তরুণরা অতীতের মতো এসব আর চায় না। হাওরের জল মহাল গুলো দখল হয়ে যায়। কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। আমি নির্বাচিত হলে জল মহাল মুক্ত করা হবে। নদী দখল মুক্ত করা হবে। তরুণরা আমাদের সঙ্গে আছে। আশা করছি, এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।’

অন্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় থাকলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নেত্রকোণা-৪ আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। তবে সব মিলিয়ে ভোটের মাঠে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত আধিপত্য ধরে রেখেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।

এইচ এম কামাল/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।