আইভীর পক্ষে কাজ করতে আ.লীগ নেতাদের হুঁশিয়ারি
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে কাজ করতে স্থানীয় নেতাদের কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম কাজী জাফরউল্লাহ।
তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে জটিলতার কারণেই দলের সভানেত্রী কেন্দ্র থেকে আমাদের পাঠিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কে কী ধরনের নীল নকশা করছেন তা সম্পর্কে নেত্রী পুরোপুরি অবগত আছেন।
নেত্রী আমাকে বলেছেন নারায়ণগঞ্জের নেতাদের স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার জয়ের জন্য সকল নেতাকর্মীদের ১০০ তে ১০১ ভাগ শ্রম দিতে হবে। আর যদি কারও ১ ভাগ শ্রম কম থাকে। তাহলে সে খবর নেত্রীর কাছে যাবে। তখন নেত্রী কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থা নেবেন।
সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নং রেল গেটস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন দলের প্রেসিডিয়াম কাজী জাফরউল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, নৌকাকে জয়ের জন্যে আমি আছি, থাকবো। প্রয়োজনে ২২ ডিসেম্বর রাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ অফিসের টেবিলে শুয়ে থাকবো। সুতরাং এ বার্তা আপনাদের বুঝতে হবে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ওনার প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের কাছে এ বার্তা নিয়ে এসেছি।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নৌকা বঙ্গবন্ধুর মার্কা। নৌকা শেখ হাসিনার মার্কা। নৌকা ব্যক্তিগতভাবে আমার একার নয়। তাই সবার কাছে আবেদন আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবোঝির অবসান ঘটিয়ে সকল স্তরের নেতাকর্মীর প্রাণের স্পন্দন থেকে নৌকার জয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, নৌকা প্রতীক কোনো ব্যক্তি কিংবা আইভীর না। এই নৌকা শেখ হাসিনার। তাই সকল ভুল বোঝাবোঝির অবসান ঘটিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করতে হবে।
সহ-সভাপতি চন্দন শীল বলেন, এর আগে আইভী দলের নেত্রী ও আমাদের নেতাকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। এতে তাকে বার বার ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ক্ষমা চাননি। ক্ষমা চাইলে সম্মান বাড়ে, কমে না।
এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি খোকন শাহ বলেন, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করছি। তবে নাকে খদ দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে চলে যাব।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাংস্কৃতিতক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সহ-সভাপতি রোকনউদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান দিপু, আওয়ামী লীগ নেতা আরজু রহমান ভূইয়া ও জিএম আরাফাত প্রমুখ।
মো. শাহাদাত হোসেন/এএম