ঝিনাইদহ হানাদার মুক্ত দিবস আজ


প্রকাশিত: ০৫:১৫ এএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬

১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে ঝিনাইদহ থেকে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক হতাহতের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ শত্রুমুক্ত হয়। আকাশে ওড়ে লাল সবুজের স্বাধীন পতাকা।

মুক্তির মিছিল ছড়িয়ে পড়ে জেলা থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ঝিনাইদহে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয় সদর উপজেলার বিষয়খালীতে। এছাড়া শৈলকুপা থানা আক্রমণ, কামান্না, আলফাপুর ও আবাইপুরের যুদ্ধ আজও স্মৃতিতে অম্লান বলে জানান জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মকবুল হোসেন।

তিনি আরও জানান, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবশেষে ৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে যশোর ক্যান্টোনমেন্ট থেকে ভারি অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাক বাহিনী ঝিনাইদহ দখলের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসতে থাকে। এ সময় সদর উপজেলার বিষয়খালী ব্রিজের এপার থেকে মুক্তিযোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রায় ৩ ঘণ্টা যুদ্ধের পর পাকসেনারা পিছু হঠতে বাধ্য হয়।
 
Jhinaidoho

তিনি আরো জানান, ১৬ এপ্রিল হানাদার বাহিনী আবারো বিষয়খালী বেগবতী নদীর তীরে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়। সেখানে প্রায় ৬ ঘণ্টা তুমুল যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ব্রিজের পাশেই তাদের গণ কবর দেওয়া হয়।
 
এরপর থেকেই জেলায় ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ। এর মধ্যে বিষয়খালী যুদ্ধে ৩৫ জন, আবাইপুর যুদ্ধে ৪১ জন, কামান্না যুদ্ধে ২৭ জনসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝিনাইদহ জেলায় সর্বমোট ২৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। অন্যদিকে পাক বাহিনীর অন্তত ৩৭ জন সেনা সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে নিহত হয়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড থেকে জানা যায়, ৬ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ হানাদারমুক্ত হয়। তাই এ দিনটিকেই হানাদারমুক্ত দিবস হিসাবে পালন করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে জেলায় প্রথম সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয় সদর উপজেলার বিষয়খালীতে।

Jhinaidoho

উল্লে­­খযোগ্য যুদ্ধের মধ্যে ছিল বিষয়খালী যুদ্ধ, গাড়াগঞ্জ যুদ্ধ, শৈলকুপা থানা আক্রমণ, কামান্না, আলফাপুর ও আবাইপুরের যুদ্ধ।

১ থেকে ১৬ এপ্রিল বিষয়খালী যুদ্ধে ৩৫ জন, ১৪ অক্টোবর আবাইপুর যুদ্ধে ৪১ জন, ২৬ নভেম্বর কামান্না যুদ্ধে ২৭ জনসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝিনাইদহ জেলায় ২৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এর মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে এই জেলায় দুইজন। তারা হলেন বীর শ্রেষ্ট হামিদুর রহমান ও বীর প্রতীক সিরাজুল ইসলাম।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।