ঠাকুরগাঁওয়ে ভোগান্তির শিকার মোটরযান মালিকরা
কিছু দিন আগে ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়ার চুক্তি বাতিল হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলের লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন আবেদনকারীরা।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা জমা দিতে এসে এ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নতুন করে যে ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে সেখানেও ভোগান্তির কমতি নেই। ওই ব্যাংকে দিনে ২০ জনের বেশি কারো টাকা জমা নিচ্ছে না। এ বিষয়টি আবেদনকারীদের জানা না থাকায় অনেকে টাকা জমা দিতে পারছে না।
এমনই এক ঘটনার শিকার নাজমুল ইসলাম। পরপর দুইদিন ৬০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা হরিপুর থেকে জেলা শহরে এসেও টাকা জমা দিতে পারেন নি তিনি। অবশেষে তৃতীয় দিনের দিন নতুন চুক্তিবদ্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।
একই ব্যাপারে ক্ষোভ নিয়ে অভিযোগ করেন পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলা থেকে টাকা জমা দিতে আসা রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমাদের দেবিগঞ্জে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শাখা থাকলেও সেখানে টাকা জমা নেয়া হচ্ছে না। অনেক সকালে টাকা জমা দেয়ার জন্য এসে দেখি ব্যাংক ২০ জনের বেশি টাকা জমা নিচ্ছে না। আবার পরে আসতে হবে।
রুহিয়া ঘনিমহেশপুর গ্রামের শরিফুল চৌধুরী বলেন, মাত্র কয়েক দিন হলো মোটরসাইকেল কিনেছি। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না থাকায় পুলিশ সেটি আটকে রেখেছে। সাত দিন ধরে ব্যাংকে ধর্ণা দিয়েও রেজিস্ট্রেশনের ফি জমা দিতে পারি নি।
ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি জমা দিতে গিয়ে মোটরযান মালিকেরা এমনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় এ টাকা জমা নেয়ার কথা থাকলেও নিচ্ছে মাত্র মার্কেন্টাইল ব্যাংক।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফিসহ সব ধরনের ফি জমা নেওয়ার চুক্তি হয়েছে। কিন্তু শুধু মার্কেন্টাইল ব্যাংক এসব ফি জমা নিচ্ছে। কিছুদিন আগে ব্র্যাক ব্যাংক টাকা জমা নিলেও সম্প্রতি তারা সুবিধাটি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছিল মোটরসাইকেলের মালিকেরা।
প্রতিদিন ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচ উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলা পঞ্চগড় থেকেও কয়েক শত মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে আসেন ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে। তারা শহরের মার্কেন্টাইল ব্যাংক শাখায় ভিড় করেন। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন ২০ জন ফির টাকা জমা দিতে পারেন। বাকিরা টাকা জমা দিতে না পেরে ফিরে যান। অনেকে দুই সপ্তাহ ঘুরেও টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মার্কেন্টাইল ব্যাংক ঠাকুরগাঁও শাখার ম্যানেজার আবু আলা মোহাম্মদ মাজাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের ব্যাংকে রেজ্রিস্ট্রেশন এর টাকা জমা নেওয়া শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার থেকে। টাকা জমা নেওয়ার সময় বিআরটিএ`র যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় তা এখনো সম্পূর্ণ শিখতে পারে নি জমা নেয়া কর্মকর্তা। তাই আমরা প্রতিদিন ২০ জনের বেশি গ্রাহকের টাকা জমা নিতে পারছি না। আর আমার এক ব্যাংকের পক্ষে দুই জেলার এত মানুষের টাকা জমা নেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তাই অন্য ব্যাকগুলো টাকা নেওয়া শুরু করলে গ্রাহক ভোগান্তি কমবে।
এ বিষয়ে বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো ফারুক আলম জাগো নিউজকে বলেন, নতুন করে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। কিছুদিন আগে ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণে একটু ভোগান্তি হয়েছিল। কিন্তু এখন আর কোনো সমস্যা নেই। নতুন সফটওয়্যার হওয়ার কারণে গ্রাহকদের টাকা জমা নিতে একটু দেরি হতে পারে ব্যাংকের।
রবিউল এহসান রিপন/এমএএস/আরআইপি