ধরা পড়ছে বহনকারীরা, বাইরে মূলহোতারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৬

যশোরের বেনাপোল ও শার্শার সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে আসছে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য। সম্প্রতি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা।

তবে দুই একটি অস্ত্রের চালান ধরা পড়লেও এর সিংহভাগ চলে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এসব ঘটনায় মাদক ও অস্ত্র বহনকারীরা আটক হলেও মূলহোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

জানা যায়, বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, বাহাদুরপুর, সাদিপুর ও শার্শার অগ্রভূলোট, গোগা, শিকারপুর, কাশিপুর এলাকা দিয়ে আসছে মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য।

গত ১ ডিসেম্বর শার্শার রামচন্দ্রপুর গ্রাম থেকে বাহাদুরের শহিদুল ইসলাম নামে এক সন্ত্রাসীকে একটি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলিসহ আটক করে শার্শা থানা পুলিশ।

গত ২ ডিসেম্বর শার্শার মহিষাকুড়া গ্রামে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরিত হয়ে আশানুর রহমান আশা নামে একজন বোমা কারিগর আহত হয়। এ সময় পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১০টি হাত বোমা, একটি ভারতীয় পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও দুইটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে।

গত ৩ ডিসেম্বর বেনাপোলের দৌলতপুর গ্রামের মুনতাজের ছেলে অস্ত্র ব্যবসায়ী মুকুলকে দুইটি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে বিজিবি।

এ ছাড়া ৫ ডিসেম্বর বেনাপোলের বারোপোতা গ্রামের মুনাফ বিশ্বাসের ছেলে শাহিনকে একটি ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড গুলিসহ আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।

৯ ডিসেম্বর বেনাপোলের বালুন্ডা বাজার থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড রাইফেলের গুলি ও ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ রানা (২২) নামের একাধিক মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে পোর্ট থানা পুলিশ।

এ ছাড়া ২ ডিসেম্বর বেনাপোলের সীমান্তবর্তী সাদিপুর গ্রামের হেরোইন ব্যবসায়ী আকবারের বাড়ি থেকে দেড় কেজি হেরোইনসহ হাবিবুর রহমান হবি ও শওকত আলীকে আটক করেছে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত ৫ ডিসেম্বর শার্শার বাগআঁচড়ার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাককে সাতমাইল এলাকা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

গত ৯ ডিসেম্বর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বেনাপোল ও পুটখালি থেকে মহিলা মাদক ব্যবসায়ীসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল, ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ।

সীমান্ত এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন বিজিবি পোস্ট থাকলেও এসব অস্ত্র ব্যবসায়ীদের উপর নজরদারি কম থাকায় এরা ভারত থেকে নির্দ্বিধায় অস্ত্র এবং মাদক এনে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শার্শার কাশিপুর এলাকায়ও মাদকের বিশাল কেনা-বেচা হয় প্রশাসনের নাকের ডগায়। এখানে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক বিকি-নিকি হয়।

এ ছাড়া বেনাপোল বাজারের মাছ বাজারের পেছনে, ভবারবেড় রেললাইন পাড়া, দুর্গাপুর রোডে, কাগজপুকুর রেল লাইন এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়ে থাকে মাদকদ্রব্য।

বেনাপোল বন্দর এলাকায় দেখা যায় গাড়ির ড্রাইভাররা সন্ধ্যার পর গাড়িতে বসে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল সেবন করছে। আবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে বেনাপোল এসে মাদকদ্রব্য সেবন করে চলে যায়। বেনাপোল পোর্ট থানা মাঝে মধ্যে দুই একজনকে সেবনের সময় আটক করলে ও মূল ব্যবসায়ীরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান বলেন, অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। অস্ত্রসহ মাদক উদ্ধার হচ্ছে। এলাকার মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন বেশি। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সীমান্তে নিয়োজিত বেনাপোল বিজিবি কোম্পানি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শহিদুল ইসলাম জানান, মাদক ও অস্ত্র পাচার বন্ধে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কড়া নজরদারি থাকায় সীমান্তে অস্ত্র ও মাদক ধরা পড়ছে। ভারত থেকে আসা এসব মাদক ও অস্ত্র বন্ধে সবার সতর্ক থাকা প্রয়োজন।    

মো. জামাল হোসেন/এএম/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।