বিজয়ের মাসের পতাকা ফেরিওয়ালা মোবারক


প্রকাশিত: ০৬:৫১ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬

মো. মোবারক হোসেন। বাড়ি ময়মনসিংহ জেলা সদরের ডৌহাকলা গ্রামে। জন্ম দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় এক যুগ পরে। পেশায় তিনি দিনমজুর হলেও বিজয়ের মাসে দিনমজুরের কাজ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা নিয়ে। এ পতাকা তুলে দেন স্বাধীন দেশের নতুন প্রজন্মের হাতে হাতে।

বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রি করা তার পেশা। সারাদিন হেঁটে বিভিন্ন শহর এলাকায় পতাকা বিক্রি করেন তিনি। রাতে যে শহরে পতাকা বিক্রি করেন সে এলাকাতেই ভাড়ায় রাত্রি যাপন করেন।

রোববার সকালে মির্জাপুর প্রেসক্লাবের সামনে তার সঙ্গে কথা হলে জানা যায়, আট-নয় বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে পতাকা বিক্রি করে থাকেন। এ বছরও ১ ডিসেম্বর থেকে পতাকা বিক্রি শুরু করেছেন এবং তা চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বড় বোন ময়মনসিংহ মহিলা কলেজে বিএ অনার্স, ছোট ভাই এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট বোন নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছেন। তাদের লেখাপড়ার খরচ তাকেই বহন করতে হয়। তাছাড়া বাবা-মাসহ সংসারে ছয়জনের খাবারের খরচও তাকে যোগাতে হয়।

তার কাছে সাত রকমের পতাকা রয়েছে। এগুলো হলো স্টিকার, লাঠি পতাকা, মাথার ফিতা, জিরো পতাকা, ২ ফুট, সাড়ে তিন ফুট এবং ৫ ফুট পতাকা। পতাকার সাইজ অনুসারে এর ক্রেতাও আছে বলে জানান তিনি। স্টিকার বিক্রি করেন ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের কাছে। লাঠি পতাকা বিক্রি করেন রিকসা ও সাইকেল চালকদের কাছে। জিরো পতাকা বিক্রি করেন মোটরসাইকেল এবং ছোট যানবাহনের চালকদের কাছে। মাথার ফিতা কেনেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজের পতাকা বিক্রি করে বলে মোবারক জানান।

এতো ব্যবসা থাকতে এ ব্যবসা কেনো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বড় হতে চাই। দেশে এখনও অনেক রাজাকার রয়েছে। পতাকা বিক্রি করতে এসে তাদের অনেক কথায় শুনতে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন দেশ স্বাধীন হইনাই। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যে ভরে গেছে। এসব কথা শুনতে খুবই কষ্ট লাগে। কিছুই বলতে পারিনা।

এস এম এরশাদ/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।