নওগাঁয় বন্যপ্রাণী নিধনে আদিবাসী শিকারীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

ঘাড়ে তীর-ধনুক ও হাতে  লাঠি-শোঠা। বনবিড়াল (গাবড়া), বেজি ও শেরুল্যাসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকারে নেমেছে তারা। শীত মৌসুম এলেই দেখা মেলে আদিবাসী শিকারীর দল। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শিকারীরা নিধন করছেন বিভিন্ন জাতের বন্যপ্রাণী।

গ্রামের লোকজনের কাছে ক্ষতিকর প্রাণী হিসেবে পরিচিত বনবিড়াল, বেজি ও শেরুল্যা। প্রতিরাতেই হাঁস-মুরগীর ঘরে হানা দেয় ক্ষতিকর প্রাণী। বাড়ির আশে-পাশে ছোট খাটো বাঁশ ঝাড় বা পুকুর পাড়ের জঙ্গলে তাদের বসবাস। বিশেষ করে বনবিড়াল আর বেজির অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

বনবিড়াল বাড়ির তলা বা মাচায় ঝোঁপঝাড়ে বাসা বেঁধে থাকে। রাত হলেই কোনো না কোনো বাড়ির হাঁস-মুরগির ঘরে হানা দেয়। আর ওইসব  ক্ষতিকর প্রাণীদের ধরিয়ে দিতে এলাকাবাসী শিকারীদের সহযোগিতা করে থাকে।

রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রামে হঠাৎ করেই দেখা মিলল আদিবাসী শিকারীদের হাতে তীর-ধনুক, লাঠি-শোঠা। সেখানে আব্দুস সালামের বাড়ি ঘিরে রেখেছে শিকারীর দল। একটু পরই শিকারীর তীরে  বৃদ্ধ হয়ে ধরা পড়লো বনবিড়াল।

মহাদেবপুর উপজেলায় আদিবাসীদের বসবাস বেশি। তারা ধান কাটা মাড়াইয়ের পর মাংস সংগ্রহের জন্য দল বেধে বন্যপ্রাণী শিকারে বেরিয়ে পড়েন।

এছাড়া বদলগাছী উপজেলার গোপালপুর গ্রামে শুক্রবার বিকেলে হলুদ খেতে ১০/১৫ জনের আদিবাসী শিকারীদের বন্যপ্রাণী শিকার করতে দেখা গেছে।

শিকারীর দলনেতা রাবন মরমু জানান, তার দলে দিলিপ মরমু (২৫), রাইসেন সরেণ (৪২) ও সুমন বাস্কেসহ (২৬) ১৭ জন আছে। সপ্তাহ খানেক আগে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার নহানি গ্রাম থেকে এসেছেন। শীত মৌসুমে প্রতিবছর বিভিন্ন জেলায় শিকারে যান তারা। গ্রামের লোকজনের কাছে ক্ষতিকর প্রাণী ধরতে স্থানীয়রা তাদের সহযোগিতা করে থাকে।

শিকারী দিলিপ সরেন ও সবিন মুন্ডা জানান, প্রায় ৮/৯ বছর ধরে শিকার করছেন। তাদের এলাকার কৃষি কাজ শেষ করেই বিভিন্ন স্থানে শিকার করতে বেরিয়ে পরেন। কয়েকদিন শিকার করে যা সংগ্রহ হয় তা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। প্রধান শিকার হলো-বনবিড়াল, বেজি, শেরুল্যা, বাদুরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। প্রতিটি বনবিড়ালের প্রায় ৫-৭ কেজি করে মাংস হয়।

কয়েক দিন থাকার পর খেয়ে পরে যা বাঁচে সেগুলো গরম করে পাতিলের মুখ শক্ত করে বেঁধে রেখে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পারিবারের খাবার চাহিদা মেটার পর প্রতি কেজি মাংস ৩শ থেকে ৪শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। পেশা হিসেবে নয়। বরং সখের বসে শিকার করা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম সোনার জানান, বন্যপ্রাণী দিন দিন বিলুপ্তির পথে।এসব প্রাণীর কোনো আবাসস্থল না থাকায় গ্রামের লোকজনের হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ক্ষতি করে থাকে। এতে করে গ্রামের লোকজন ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

আব্বাস আলী/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।