কক্সবাজারে আমনের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা


প্রকাশিত: ০২:১০ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬

আবহাওয়া ও চাষের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় কক্সবাজারে এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ২ লাখ ৩ হাজার ৭০৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৭৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে জেলায় এবার রোপা আমনের চাষাবাদ হয়।

সব কিছু অনুকূলে থাকায় চাহিদার ছেয়ে ভালো ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে উৎপাদিত ফসল অধিকাংশই কেটে ঘরে তোলা হয়েছে। বাকিটুকুও দ্রুত বাড়ি নেয়া ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। এতে চাষি পরিবারে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

ফলন ভালো হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন চালের পিঠার উৎসব চলছে। এমনটি জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা কৃষি অধিদফতর।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৭৭ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও হাইব্রিড, উচ্চফলনশীল এবং স্থানীয় জাতের চারা দিয়ে চাষাবাদ হয় ৭৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা হিসেবে চকরিয়াতেই বেশি চাষাবাদ হয়েছে। সেখানে সব জাত মিলিয়ে চাষের আওতায় আসে ১৯ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমি।

এছাড়া সদরে ৯ হাজার ১৩০ হেক্টর, পেকুয়াতে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর, রামুতে ৯ হাজার ৪০০ হেক্টর, উখিয়ায় ৯ হাজার ২০ হেক্টর, টেকনাফে ১০ হাজার ৮২০ হেক্টর, মহেশখালীতে ৮ হাজার ২০০ হেক্টর, কুতুবদিয়ায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করে কৃষকরা।

এসবের জমির অনুকূলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৭০৮ মেট্রিক টন। গড় হিসেবে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওর জালালাবাদ ফরাজীপাড়ার চাষি মৌলভী হাবিব উল্লাহ এবার ২০ কানি জমিতে ধান চাষ করেছেন। ফলন খুব ভালো হওয়ায় ধারণা করেছেন, কানিতে ৮০ আরি ধান পড়বে। মাড়াই শেষে কানিতে ৯৫ আরি ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন তিনি।

তবে কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় খরচ গেছে বেশি। সস্তায় চাষাবাদ সম্পন্ন করা গেলে লাভবান হওয়া যেত বলে মত দেন তিনি।

সদরের পিএমখালী বাংলাবাজার এলাকার ছব্বির আহাম্মদ বলেন, এবার আমন মৌসুমে বার বার নিম্নচাপ দেখা দেয়ায় ধান রোপনের পর ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে আল্লাহর রহমতে আশার চাইতে বেশি ফসল ঘরে উঠছে। এখনো মাড়াই শেষ না হওয়ায় কী পরিমাণ ধান পড়েছে তা সঠিক ভাবে বলা না গেলেও, ক্ষতি হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Rice

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বাসিন্দা চাষি মোস্তফা কামাল বলেন, এবার ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রায় ২৫ কানি জমিতে চাষ করে প্রতি কানিতে প্রায় ১০০ আরির উপরে ধান হয়েছে। সপ্তাহ খানেক ধরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বেশকিছু ধান বাড়িতে চলে গেছে, বাকি ধানও কাটা চলছে।

তবে ধান কাটার মজুর খরচ গত সময়ের তুলনায় বেশি দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে একজন মজুর কাজ করতো ৪০০-৫০০ টাকায়। আর চলতি বছর সেটা ৭০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। যারা ধান কাটা ও মাড়ায় ভালো জানেন তাদের দাম আরও বাড়তি।

চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকার কৃষক মাইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এবার প্রায় ৪০ কানি জমিতে আমন চাষ দেয়া হয়। ফলন সন্তোষজনক হয়েছে এবং ৯০ শতাংশ ধানকাটা হয়ে গেছে। মাড়ায় ও গোলায় তোলার কাজ চলছে সমান তালে। বাকিটা ঘরে চলে এলে পরীক্ষা শেষে সব আত্মীয়-স্বজনও বাড়ি আসবে। তখন প্রতিবারের মতো নতুন চালের পিঠার আয়োজন হবে। এনিয়ে অন্দর মহলে খুশির আমেজ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. এনায়েত-ই-রাব্বী বলেন, কৃষকদের নিয়েই আমাদের কাজ। তারা খুশি থাকলে আমরাও খুশি। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এখন প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক আ ক ম শাহরিয়ার বলেন, এবার জেলার সার্বিক পরিবেশ বেশ ভালো ছিল। কৃষকরা বেশ সময় নিয়ে মাঠ পরিচর্যা করতে পেরেছে। সব মিলিয়ে একটি সুন্দর পরিবেশ থাকায় আমনের ফলন ভাল হয়েছে। এতে আমরা খুবই খুশি।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।