ধর্ষক আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় নির্যাতিতা ছাত্রী


প্রকাশিত: ০২:৫০ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে ধর্ষণের শিকার স্কুল শিক্ষার্থীর বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। ধর্ষক ও তাদের সহযোগীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কে দিন কাটছে কিশোরী ও তার পরিবারের।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ধর্ষকদের প্রশ্রয়দাতা উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন মিথুনের সখ্যতা থাকায় আইনি সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতা ছাত্রী ও তার মা।

বুধবার বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার কিশোরী ও তার পরিবার।  

লিখিত বক্তব্যে কিশোরী উল্লেখ করেছে, উখিয়ার সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী ৪ ডিসেম্বর ডায়রিয়া আক্রান্ত মায়ের সঙ্গে উখিয়া হাসপাতালে যায়। পরদিন ৫ ডিসেম্বর অসুস্থ মায়ের সিট থেকে উঠে বাথরুমে যাওয়ার পথে হাসপাতাল এলাকার কালু মিস্ত্রির ছেলে গিয়াস উদ্দিন, ঠান্ডা মিয়ার ছেলে আবদুস শুক্কুরসহ চার যুবক মুখ চেপে ধরে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

পাশের কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে ছুরির ভয় দেখিয়ে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। প্রথমে তাকে গিয়াস উদ্দিনই ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে প্রতিবেশী লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।

লিখিত বক্তব্যে সে আরও উল্লেখ করেছে, ‘ঘটনার পর লোকলজ্জার ভয়ে সে কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েও অসহায় বাবা-মায়ের জন্য পারেনি।’

নির্যাতিতা কিশোরী জানায়, পুলিশের সঙ্গে ধর্ষকদের সহযোগীর সখ্যতা থাকায় প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

উপরন্ত ধর্ষকদের সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা মিথুন নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে। চিরতরে মুখ বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়েছে। ঘটনার পরে সকালে দলবল নিয়ে হাসপাতালেও মিথুন নানা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দেয়। এরপর মাকে চিৎিসা না করিয়ে বাড়ি ফিরে যায় তারা।

তার মতে, ‘হুমকির ঘটনা আমরা উখিয়া থানা পুলিশের ওসিকে জানিয়েছি। ওসির সামনে হুমকিদাতা মিথুনকে শনাক্ত করেছে আমার মা। তারপরও মিথুন কোন ধরনের শাস্তি পায়নি। এতে সে আরও বেপরোয়া হয়ে হুমকি অব্যাহত রেখেছে।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে কিশোরী বলে, ‘আমি আপনাদের মেয়ে ও ছোট বোনের মতো। আপনারা সহযোগিতা করলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাবে।’

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন মিথুন এটি ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, যারা ঘটনা করেছে তারা শ্রমিকলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমি কেন তাদের হয়ে হুমকি দেব?

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তার সখ্যতার কথা স্বীকার করে বলেন, থানার সব অফিসারদের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া আছে। কিন্তু আমি কখনো এসব বিষয় (ধর্ষণ মামলা) নিয়ে কথা বলিনি।

উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. কায় কিসলু বলেন, এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। এখানে রাজনৈতিক কোন প্রভাব নেই। আমরা ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আবদু শুক্কুর নামে ধরেছি। সে কোন চারজন ছিল স্পষ্ট করে দিয়েছে। এখন বাকিদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।