সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম হলো ঘোড়সওয়ারী তাসমিনা


প্রকাশিত: ১২:২৭ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬

নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে রোববার দুপুরে শহরের এটিএম মাঠে স্থানীয় সংগঠন ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’র আয়োজনে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলার ধামইরহাট উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকারপরিচিত মুখ কিশোরী ঘোড়সওয়ারী তাসমিনা আক্তারসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২৩টি ঘোড়সওয়ারী খেলায় অংশ নিতে আসেন।

চারটি গ্রুপে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। প্রথম পর্যায়ে গ্রুপ ‘সি’ তে একটি সাদা মাঝারি আকারে ঘোড়া (বিজলি) নিয়ে অংশগ্রহণ করে। ঘোড়দৌড় দেখতে আসা হাজারো দর্শকের দৃষ্টি ছিল তাসমিনার দিকে। তিনজন ঘোড়সওয়ারীকে পেছনে ফেলে প্রথমস্থান অর্জন করে সে। মাঠের চারিদিকে থাকা দর্শকের মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাসমিনাকে অভিনন্দন জানায় সবাই।

ঘোড়া থেকে নেমে মাঠের মধ্যে আসা তাসমিনাকে ঘিরে দর্শকদের সেলফি ও ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। এরপর শুরু হয় চূড়ান্ত খেলা। চূড়ান্ত পর্যায়েও সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথমস্থান অর্জন করে তাসমিনা। দর্শকদের অনুরোধে আবারও মাঠের চারিদিকে ৩ বার ঘোড়দৌড় দেয় তাসমিনা।

Naogaon

সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক।  অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল আকতার, পৌর মেয়র নাজমুল হক সনি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান এমপি, সাবেক অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।

এসময় ঘোড়সোয়ারী তাসমিনা আক্তার বলে, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আমার ভালো লাগে। যদিও অনেক ঝুঁকি আছে। ঘোড়দৌড়ে তো সবাই পুরুষ অংশগ্রহণ করে। আর আমি একমাত্র মেয়ে। চেষ্টা করি প্রথম হওয়ার জন্য। এবার শঙ্করপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনি পরীক্ষা দিয়েছি। পড়াশুনা করে পুলিশে চাকরি করার ইচ্ছা আছে।

একুশে পরিষদের সভাপতি ডিএম আব্দুল বারী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নওগাঁ পাকহানাদার মুক্ত হয়। এই আনন্দ সবাই এক সঙ্গে উপভোগ করতে আনন্দ শোভাযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। বিশেষ করে তাসমিনাকে দেখতে মানুষের বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। তাসমিনা আমাদের অহংকার। গ্রামে এ বয়সে বেশির ভাগ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। সেখানে সে সাহসিহকতার সঙ্গে পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগতা করে প্রথমস্থান অর্জন করেছে। মেয়েটি যেভাবে ঘোড়া চালিয়ে প্রথম হলো এটি সত্যিই বিস্ময়কর।

পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাসমিনাকে পড়াশুনা থেকে শুরু করে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। এরকম একটা সাহসী মেয়ে পুলিশ প্রশাসনে প্রয়োজন আছে। পড়াশুনা শেষে চাকরির ক্ষেত্রেও আমরা তাকে সহযোগিতা করবো। যেহেতু তার এখনও অনেক সময় আছে। আগামী ২২ তারিখে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

পরে বিজয়ী প্রথম কিশোরী ঘোড়সওয়ারী তাসমিনা আক্তার ও আইনুল হোসেনকে কালার টেলিভিশন এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজয়দের মোবাইল ফোন পুরস্কার প্রদান করেন প্রধান অতিথি।

আব্বাস আলী/এমএএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।