বছরজুড়ে আলোচনায় হবিগঞ্জ


প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬

কয়েক ঘণ্টা পর ২০১৬ সাল শেষ হবে। শুরু হবে নতুন বছর ২০১৭। বিদায়ী বছরের পুরো সময়ই আলোচনায় ছিল হবিগঞ্জ জেলা। এর পরই ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় বাহুবলে চার শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

এটি পুরো বিশ্ববাসীর হৃদয়কে নাড়া দেয়। বিষয়টি বিশ্ব মিডিয়ায়ও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। সর্বশেষ আলোচিত ঘটনা ছিল মাধবপুরে মা-মেয়েসহ তিনজনকে হত্যার ঘটনা।

শুধু দুর্ঘটনা নয়, এ বছর রয়েছে অনেক আলোচিত ঘটনাও। বছরের শুরুতেই আলোচিত হয় পৌরসভা নির্বাচনে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে আটক থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছের মেয়র পদে বিজয়ের বিষয়টি। বছর শেষে আলোচিত হয় প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে পুলিশের পদোন্নতির বিষয়টি।

বিদায়ী বছরের আলোচনা শুরু হয় পৌর নির্বাচনে বিজয়ী কারান্তরীণ জি কে গউছের বিজয়ের বিষয়টি দিয়ে। তার শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে ছিল বেশ টানাপোড়েনও। শেষ পর্যন্ত সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তার শপথ গ্রহণ হলেও নানা জটিলতার কারণে দায়িত্ব নেয়া আর হয়নি।

এরপর পরিষদ গঠন নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিষদ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে জি কে গউছকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এটি আলোচনায় থাকা অবস্থায়ই বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে ৪ শিশু হত্যার ঘটনা ঘটে।

১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রামের খেলার মাঠ থেকে নিখোঁজ হয় ওই ৪ শিশু। ২০ ফেব্রুয়ারি বাড়ির অদূরে একটি বালুর ছড়া থেকে মাটির নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি বিশ্ব মিডিয়ায়ও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সব মিডিয়ায়ই ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযুক্ত সিএনজি অটোরিকশাচালক বাচ্চু মিয়া র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এর মাঝে ৫ জন কারাগারে আছে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।

এর মাঝে বেশ কিছু ঘটনা ঘটলেও মাধবপুরে মা-মেয়েসহ ৩ জন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেশ আলোচিত হয়। এটিও কম আলোচনার জন্ম দেয়নি। সম্পত্তিসহ পারিবারিক নানা বিরোধের জের ধরে ২৩ আগস্ট রাতে ভাবি, ভাতিজিসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা করে এক ব্যক্তি। সেই সঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

ইতোমধ্যে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। পরবর্তী মাসে ১৭ সেপ্টেম্বর আলোচনার জন্ম দেয় নবীগঞ্জে প্রেমিকের হাতে কলেজছাত্রী তন্মী হত্যার ঘটনা। সদর উপজেলার উচাইল গ্রামে স্কুলছাত্র লায়েছ হত্যার ঘটনাও কম আলোচিত হয়নি। এ দুই ঘটনাও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

১ নভেম্বর নবীগঞ্জে পাহাড় ধসে ২ জন নিহতের ঘটনায়ও আলোচনার কমতি ছিল না। বছরের শেষ দিকে এসে জেলা শহরে ডাকাতি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। একের পর এক বেশ কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কোনভাবেই যেন তা দমানো যাচ্ছিল না।

শেষ পর্যন্ত শহরবাসী এলাকায় এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিতে শুরু করেন। পুলিশের টহলও জোরদার করা হয়। রাত ১২টার পর সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কাউকে বাইরে অবস্থান করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালিয়ে জানানো হয়।

৮ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় এক দুর্ধর্ষ ডাকাত। এরপর থেকেই ডাকাতি বন্ধ হয়। এছাড়া পুরো বছর জুড়েই হত্যা, সড়ক দুঘটনাসহ রয়েছে নানা আলোচিত ঘটনা। শুধু দুর্ঘটনা ছাড়াও এ বছর বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ। কোন অর্থনৈতিক সুবিধা ছাড়াই এ বছর উক্ত পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে অনেক অসহায় দরিদ্র পরিবারের যুবকদেরও নিয়োগ হয়েছে।

এ বিষয়টিও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বিভিন্ন স্থানে দৌঁড়ঝাঁপ করেও কোনো ফল পাননি। আর সর্বশেষ পুলিশের এসআই ও এএসআই পদে পদোন্নতি প্রাপ্তদের প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তরা নিজেরা হাতেই ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।