মেয়র গউছের মুক্তিতে চাঙ্গা হবিগঞ্জ বিএনপি


প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ০৫ জানুয়ারি ২০১৭

হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ মুক্তি পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। পৌর এলাকার নাগরিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। কারাগারে থাকা অবস্থায় নির্বাচিত মেয়রকে না পেয়ে নিজেদের অভিভাবকহীন মনে করছিলেন পৌরবাসী। বুধবার তার মুক্তিতে দলীয় নেতাকর্মীরা এখন চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন।

কারামুক্তির পর বৃহস্পতিবার প্রথমে কুশল বিনিময় দিয়ে দিন শুরু করেন হবিগঞ্জ পৌরসভার সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র জি কে গউছ। সকাল থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মী, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলাকাবাসী ও পৌর এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শুরু করেন। রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষজন ছুটে যান তাকে একনজর দেখতে ও তার শারীরিক খবর নিতে। এ সময় তারা ফুল দিয়ে পৌর মেয়রকে অভিনন্দন জানান।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় দুই বছর সাতদিন কারাভোগের পর বুধবার রাতে সিলেট কারাগার থেকে মুক্তি পান জি কে গউছ।  

জি কে গউছ বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। বিনা অপরাধে আমাকে দুই বছরের অধিক সময় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। আমি আইনের শাসনে বিশ্বাসী। এখন আমার দায়িত্ব নিতে যদি কোনো সমস্যা হয়, তবে আদালতের আশ্রয় নেব। আইনের মাধ্যমেই আমি পৌরবাসীর দায়িত্ব নেব। কারণ পৌরবাসী আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন। চরম বিপদের সময় তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানান জটিল রোগে ভুগছেন। পৌরবাসীর সাথে কুশল বিনিময় শেষে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে দেয়া সর্বশেষ সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামিভুক্ত হন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ। ওই বছরই ২৮ ডিসেম্বর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিন থেকেই কারাগারে আটক ছিলেন তিনি। প্রথম দফায় হবিগঞ্জ কারাগারে আটক থাকলেও ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই তাকে হবিগঞ্জ কারাগার থেকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে ১৯ জুলাই তাকে সিলেট কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়।

কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বিজয়ীও হন। কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে তিনিই একমাত্র নির্বাচিত হয়েছেন।

জি কে গউছ ২০১৪ সালে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে জেলায় বিএনপি অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ে। দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোর ভাঙনও বাড়তে থাকে। দলের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। কয়েকটি গ্রুপ বিভক্ত হয়ে পৃথকভাবে দলের কর্মসূচি পালন করে। তার মুক্তিতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আগ্রহের কমতি নেই। তিনি এসেই দলকে সুসংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ করবেন বলে প্রত্যাশা করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ এমরা জানান, দলের সাধারণ সম্পাদক মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক ছিলেন। তার মুক্তিতে আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। তার মুক্তির মধ্য দিয়ে সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করবে। আগামী দিনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই। আমরা আশা করি আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবেই  দলের আন্দোলন-সংগ্রাম এগিয়ে নিতে পারব।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।