ইউপি সদস্যের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ


প্রকাশিত: ০৩:৩৭ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭

ঝালকাঠির রাজাপুরের বিষখালি নদীর ভাঙন কবলিত পালট গ্রাম রক্ষায় উদ্যোগ নিয়ে ১ কি.মি বেড়িবাঁধ ও পাইলিং নির্মাণ করছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। আর এ নিয়ে খুশি এলাকার শতাধিক অসহায় ও ক্ষতির সম্মুখীন মানুষ।

ব্যক্তি উদ্যোগে নিজের অর্থায়নে এ বেড়িবাঁধ ও স্থায়ী পাইলিং নির্মাণ করেছেন বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসেন কাজল মোল্লা।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ পালট প্রাথমিক স্কুল এলাকা থেকে পালট গ্রামের কাটাখালি খালের ব্রিজ হয়ে ওই গ্রামের সফিজ উদ্দিন চাপরাশির বাড়ি হয়ে কুলাইগাছিয়া খাল এলাকা পর্যন্ত র্দীঘ ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। এ কাজে ৪ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে।

Rajapur
সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ পালট সরকারি প্রাথমিক স্কুল সংলগ্ন বিষখালি নদীর অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য রড ও সিমেন্টের স্থায়ী পাইলিং নির্মাণ করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি থেকে এ কাজ শুরু করে ইতোমধ্যে অধিকাংশই সম্পন্ন করা হয়েছে।

ওই এলাকার বিষখালি নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ পালট গ্রামের খোকন হোসেন, খলিল হোসেন ও কাঞ্চন হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষখালি নদীর ভাঙনে ওই এলাকার অনেকেরই ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলেও গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই অনেকের কাছেই ভাঙনরোধ বা বেড়িবাধের জন্য আকুতি করেছি। কিন্তু কেউই একটু নজর দেয়নি।

বর্তমানে স্থানীয় মেম্বার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক শাহাদাৎ হোসেন কাজল মোল্লা নিজ খরচে বিষখালির অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য রড ও সিমেন্টের স্থায়ী পাইলিং এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছেন। তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি প্রাণ খুলে।

এর আগেও তিনি একবার পাইলিং দিয়েছিলেন। তা ভাঙনে ভেঙে যাওয়ায় এবার রড-সিমেন্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে পাইলিং করে দিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি এলাকায় বিভিন্ন গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে সহায়তাসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করছেন।

Rajapur
কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসেন কাজল মোল্লার ছোট ভাই আবুল বাসার। তিনি জানান, পালট গ্রামের কাটাখালি খালের ব্রিজ হয়ে ওই গ্রামের সফিজ উদ্দিন চাপরাশির বাড়ি পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রতিদিন ১০ জন শ্রমিক করছেন এবং পাইলিংয়ের কাজও করছেন ১০ শ্রমিক। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক শাহাদাৎ হোসেন কাজল মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পালট গ্রামের বিষখালি নদী ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমিসহ সম্পদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বেড়িবাঁধ না থাকায় বন্যার সময় নদীর পানি প্রবেশ করে ফসল, ধান ও সম্পদের ক্ষতি হয় এবং নদী তীরের মানুষ পানিবন্দী হয়ে অসহায় হয়ে পড়ে তাই এলাকার মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে নিজ উদ্যোগেই বেরিবাধ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী পাইলিং নির্মাণ করছি।

আতিকুর রহমান/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।