মিতু হত্যা : পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ২২ ফেব্রুয়ারি
সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার পুরো সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ মামলায় ৯ জন সাক্ষী রয়েছেন। আদালতে সাক্ষী কামরুজ্জামান মিতু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩২ বোরের রিভলবার উদ্ধারের কাহিনী তুলে ধরেন।
বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শাহে নুরের আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. কামরুজ্জামান। তিনি মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত বছরের ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে প্রকাশ্যে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার আনোয়ার ও ওয়াসিম নামে দুই ব্যক্তি ২৬ জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
জবানবন্দিতে তারা আওয়ামী লীগ নেতা এহতেশামুল হক ভোলার দেয়া অস্ত্রে মিতুকে খুন করা হয় বলে উল্লেখ করেন। এরপর পুলিশ বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে ২৮ জুন ভোলাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্যে কর্মচারী মনিরের বাসা থেকে একটি পয়েন্ট ৩২ বোরের দেশি রিভলবার, ৭ দশমিক ৬৫ বোরের একটি বিদেশি পিস্তল এবং ছয় রাউন্ড রিভলবারের গুলি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রগুলো মিতু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় বলে পুলিশ জানায়।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বাকলিয়া থানায় পুলিশের এডিসি কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন বাকলিয়া থানার এসআই মহিম উদ্দিন। গ্রেফতারের পর এহতেশামুল হক ভোলার কর্মচারী মনির হোসেন ১৪ জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এতে তিনি বলেন, তার কাছে একটি কাপড়ভর্তি শপিং ব্যাগ রাখতে দেন ভোলা। তবে এর ভেতর অস্ত্র থাকার বিষয়ে তিনি জানতেন না বলেও আদালতে দাবি করেন।
অস্ত্র মামলায় ২৮ জুলাই ভোলা ও মনিরকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহিম উদ্দিন।
২২ নভেম্বর অস্ত্র মামলায় এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ১৮ জানুয়ারি থেকে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার শুরুর প্রথম দিনে অস্ত্র মামলায় সাক্ষ্য দিলেন মামলার বাদী এডিসি মো. কামরুজ্জামান।
এআরএ/এমএস