ওসিসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (তদন্ত) আশিকুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তদন্তে।
এ সংক্রান্ত অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিতর্কিত এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ হয়রানির বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। কমিটির প্রধান আরএমপির দাঙ্গা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহ আবু সালেহ মো. গোলাম মাহমুদ সোমবার রাতে পুলিশ কমিশনারের দফতরে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে ওসি আলমগীর হোসেন, ওসি আশিকুর রহমান ও ডিবির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলামিন হোসেনকে অন্যত্র বদলিসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান উপকমিশনার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীরা আরএমপির কমিশনার মো. শামসুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দুপুর পর্যন্ত হাতে পাননি বলে জানান। তবে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও কমিশনার গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত জানুয়ারির শেষার্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি হিসেবে যোগ দেয়ার পর আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতার ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। হরতাল ও অবরোধের মধ্যে সংঘটিত সহিংস ঘটনাকে পুঁজি করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বাণিজ্যে মেতে ওঠেন। সহিংসতায় জড়িত নয়, এমন সব লোকজনকে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক থেকে তুলে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে নিম্নে ১০ হাজার থেকে উর্ধ্বে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। বোয়ালিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা লোকজনকেও মামলার আসামি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে ডিবির ওসি (তদন্ত) আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিপণ আদায়ের স্টাইলে লোকজনকে ধরে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্যের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এদিকে গ্রেফতার বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক যুগান্তরের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আনু মোস্তফাসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নাশকতার ছয়টি মামলা করেন বোয়ালিয়া থানার ওসি ।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা ছাড়াও আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়েছেন এই বিষয়ে। তাদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা তদন্ত কর্মকর্তার সামনে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন।
এসএই্চএ/আরআই