শরীয়তপুরে ১৩ মাসে নসিমন কেড়েছে ১২ প্রাণ
শরীয়তপুরে গত ১৩ মাসে নসিমন ও ট্রলির চাপায় শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের গাড়ির চালকদের কোনো ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ না থাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি সাধারণ মানুষের।
এর মধ্যে শরীয়তপুর সদরে ৩ জন, ভেদরগঞ্জে ১ জন, নড়িয়ায় ৩ জন, ডামুড্যায় ২ জন, গোসইরহাটে ২ জন ও জাজিরা উপজেলায় ১ জন মারা গেছেন।
জানা যায়, শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে শুরু করে ৬টি উপজেলার ৭টি থানায় রয়েছে অবৈধ নসিমন ও ট্রলির রমারমা ব্যবসা। এদের দাপটে বাস, ট্রাক, মিনি ট্রাক মালিক সমিতির ব্যবসায়ীদের পড়তে হয়েছে বিপাকে। বিভিন্ন সাইজের স্যালো মেশিনের ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব অবৈধ গাড়ি।
আইনের কোনো বালাই না থাকায় ইটভাটাসহ নানা কোম্পানির ডিলাররা অবৈধভাবে এসব গাড়ি বানিয়ে ব্যবসা করছেন। এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা।
এগুলোর সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে ইজিবাইক। রাস্তায় এলোমেলো ভাবে চালানোর কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো জায়গা না থাকায় ফুটপাত দখল করে রয়েছে। এতে করে সাধারণ পাথচারীরা পড়ছেন বিপাকে।
পথচারীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, নসিমন ও ট্রলি একটি মরণ ফাঁদ। এসব অবৈধ গাড়ি বন্ধ করা উচিত।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর আন্তঃ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজ্জম বলেন, আমরা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবৈধ নসিমন ও ট্রলি বন্ধের দাবি জানিয়েছি।
তিনি আরে বলেন, নসিমন ও ট্রলির কোনাে লাইসেন্স নেই। জেলায় কোন কমিটিও নেই। তাই ইচ্ছে মত তারা চলাচল করছে। আর দুর্ঘটনায় পড়ছে যাত্রীরা।
এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এহসান শাহ বলেন, নসিমন ও ট্রলি অবৈধ গাড়ি। অভিযান চালিয়ে গত বুধবার ৩০টি গাড়ি আটক করা হয়েছে। পুরো জেলায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ছগির হোসেন/এফএ/পিআর