শ্যামল কান্তির পুলিশি প্রহরা প্রত্যাহার


প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে দেয়া প্রহরা প্রত্যাহার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকাল থেকে সেই আলোচিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের নিরাপত্তা দেয়া পুলিশ সরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে, গত বছরের ১৩ মে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান কর্তৃক শারীরিক লাঞ্ছনার পর নিরাপত্তার জন্য শ্যামল কান্তিকে পুলিশ প্রহরা দেয়া হয়।
 
শ্যামল কান্তি বুধবার সকালে জানান, আজ থেকে আমাকে পুলিশ প্রহরা দিচ্ছে না। এখন থেকে আমি নিজেই নিজের কাজ করছি। ছুটির দিনে বাসায় আছি। পরে শঙ্কা বোধ করলে জানাবো।
 
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক আহমেদ জানান, শ্যামল কান্তির নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুভব করায় তাকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছিল। এখন তিনি ভালো আছেন তাই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া শ্যামল কান্তির নিরাপত্তার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের কোনো নির্দেশনা ছিল না।
 
গত বছরের ১৩ মে ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অপবাদ দিয়ে বন্দরে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ে শ্যামল কান্তি ভক্তকে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। শারীরিক লাঞ্ছনার পর নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। লাঞ্ছিত শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ মে সেই বহিষ্কারাদেশ গ্রহণ করেন। ঘটনার পর দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে সাংসদ সেলিম ওসমানের কর্মকাণ্ডে সমালোচনাসহ নিন্দা জানানো হয়। তার পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারসহ তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

গত বছরের ৯ জুন শ্যামল কান্তিকে ঢাকা হাসপাতাল হতে কড়া পুলিশ প্রহরায় নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে শ্যামল কান্তিকে পুলিশের দুইজন কনস্টেবল নিয়োজিত করা হয়।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।