অনিয়মে চলছে ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন অধিদফতর


প্রকাশিত: ০৬:৫১ এএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

জনবল সংকট আর কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতর ঠাকুরগাঁও জেলার যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করতে ভুমিকা রাখতে পারছে না। খোদ উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দিয়ে মাসের পর মাস ঢাকায় বসে থাকার অভিযোগও রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর সড়কের পাশে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর মৌজায় প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর ঠাকুরগাঁও যুব ভবন অবস্থিত। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি দৃষ্টি নন্দন ভবনে যুব উন্নয়ন অফিসের কার্যক্রম চললেও এ ভবনটি বেশিরভাগ সময়ে থাকে ভূতুড়ে অবস্থায়। এখানে আবাসিক ও অনাবাসিক বিভিন্ন ট্রেডে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে আত্মকর্মী নেই বললেও চলে।

বর্তমানে ৮০তম ব্যাচ চললেও গ্রাম পর্যায়ে কতজন সফল আত্মকর্মী রয়েছে তার হিসেব নেই এ জেলা কার্যালয়ে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা আত্মকর্মীদের দেখভাল করেন বলে জেলা অফিসে কোনো তালিকা নেই।

সেলাই ট্রেডে ২৫ জন, কম্পিউটার ট্রেডে ৪০ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়্যারিং ট্রেডে ৩০ জন, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড রেফ্রিজারেশন ট্রেডে ৩০ জন, মোবাইল রিপিয়ারিং ট্রেডে ২৫ জন এবং মৎস্য চাষ ট্রেডে অনাবাসিক ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয়।

এখানে ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮ জন। এর মধ্যে দুইজন এডি, একজন ইউডি, একজন প্রশিক্ষকসহ পাঁচটি পদে কোনো লোক নেই।

এদিকে, উপ-পরিচালক আব্দুল কাদির মাসের বেশিরভাগ সময়ে অফিস ফাঁকি দিয়ে ঢাকার বাসায় অবস্থান করেন এমন অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে তিনি বেতন উত্তোলনের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন মাত্র। সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর তিনি অফিস করলেও তারপর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার অনুপস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিংসহ দাফতরিক কাজে চরম ব্যাঘাত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের  পোশাকের জন্য প্রতি বছর সরকারিভাবে বরাদ্দ আসলেও উপ-পরিচালক কাউকে না জানিয়ে গোপনে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

অফিসের ডাটা এন্ট্রি সহকারী জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, অফিসে অনেকেই সময় মত আসেন না। বেশির ভাগ সময় ছুটিতে থাকেন অফিসের কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে উপ-পরিচালক আব্দুল কাদির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা  সরকারিভাবে যত বরাদ্দ পাই তা প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শনের কারণে অফিসে কম সময় দেয়া হয় বলে তিনি জানান।

আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।