যোগাযোগ ছিল বহ্নি-বাবুলের : খুন করা হয় আকরামকে

প্রকাশিত: ০৩:১৬ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
যোগাযোগ ছিল বহ্নি-বাবুলের : খুন করা হয় আকরামকে

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম হত্যার অভিযোগ এনে ঝিনাইদহে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন এসআই আকরামের স্বজনেরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন তার বোন জান্নাত আরা পারভীন রিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, খুলনায় বাবুল আক্তারের বাবা পুলিশে ও এসআই আকরামের স্ত্রী বহ্নির বাবা বিআরডিবিতে চাকরি করতেন। থাকতেন পাশাপাশি বাসায়। সেই সুবাদে বাবুল-বহ্নির মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু ২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি আকরামের সঙ্গে বিয়ে হয় বহ্নির। অন্যদিকে পারিবারিকভাবে মিতুকে বিয়ে করেন বাবুল। কিন্তু বিয়ের পরও বাবুল আর বহ্নির মধ্যে যোগাযোগ ছিল। পরে বিষয়টা জানাজানি হয় বিয়ের পর।

এরই মাঝে আকরামের একটি সন্তান হয়। সন্তান জন্মকালে বহ্নি যখন হাসপাতালে ছিলেন তখন প্রতিদিনই এসপি বাবুল আক্তার হাসপাতালে আসতেন। হাসপাতাল থেকে রিলিজ করার পর বহ্নিকে বাবুল আক্তারের বোন লাবনীর বাসায় নিয়ে তোলা হয়। বিভিন্ন সময় বহ্নির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বাবুল আক্তার। এসআই আকরাম বিদেশে মিশনে থাকা অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলতো বহ্নি।

২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর আকরামকে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা আসার পরামর্শ দেয় বহ্নি। কিন্তু সে বাবুলের সঙ্গে কুটকৌশল করে পথে সন্ত্রাসী ফিট করে রাখে। এরপর ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ নামক স্থানে মহাসড়কে মুমূর্ষু অবস্থায় আকরামকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আকরামের শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে ফরিদপুর ও পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

Jhenidah

জান্নাত আরা আরও অভিযোগ করেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন আকরামের অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। বহ্নি স্যুপের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে আকরামকে খাওয়ায়।

এরপর ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ সালে আকরাম মারা যায়। সেখান থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার স্ত্রী বহ্নি আকরামের মরদেহ গ্রহণ করে। তখন পুলিশ ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে। মরদেহ ঝিনাইদহে আনার সময় বহ্নি না আসার জন্য নানা প্রকার ভনিতা করে। পরে ঝিনাইদহে এনে দাফন করা হয়। বহ্নির বাবা একমাত্র জামাইয়ের জানাজায় অংশ না নিয়ে বহ্নিসহ পরিবারের অন্যদের নিয়ে বাবুল আক্তারের মাগুরার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকরা বলেছিলেন আকরামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তখনই সন্দেহ হয় এটি হত্যা। কিন্তু ওই ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

পরবর্তীতে বাবুল আক্তার, বহ্নি ও তার ফুফাতো ভাই সাদিমুল ইসলাম মুনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

পরে মরদেহ পুনরায় তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়। যে রিপোর্টে প্রভাবিত করে বাবুল আক্তার। এ ঘটনায় ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বোনেরা।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস