চাঁদপুরে নষ্ট ইউরিয়া সরবরাহ : বিপাকে ব্যবসায়ীরা


প্রকাশিত: ০৪:৪৬ এএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ইরি, বোরো ও রবি শস্য মৌসুমকে ঘিরে চাঁদপুরে নিম্নমানের ও জমাটবাঁধা নষ্ট ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন চাঁদপুরের সার ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুর জেলার জন্য ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সরবরাহকৃত ৬ হাজার ৮শ ১৭ টন ইউরিয়া সারের সবই নষ্ট। কোনোভাবেই এসব সার ব্যবহার উপযোগী নয়।

বর্তমানে এসব সার নিয়ে বিপাকে রয়েছেন স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা ৬ ফেব্রুয়ারি শিল্পমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, চাঁদপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী, বিসিআইসি চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর এই নিম্নমানের সার চাঁদপুরে সরবরাহ না করতে চিঠি দিলেও চাঁদপুরে আবার এসব নিম্নমানের ও জমাটবাঁধা নষ্ট ইউরিয়া সার পাঠানোর কারণে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সার ব্যবসায়ীরা।

জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতি ও চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় জাগো নিউজকে জানান, চাঁদপুর জেলায় ১০৬ জন সার ডিলারের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১০ টন ইউরিয়া সার সরকারের কাছে থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গত নভেম্বর পর্যন্ত ১১ হাজার ৮০ টন ভালোমানের ইউরিয়া সার আশুগঞ্জ ঘোড়াসাল সার কারখানা থেকে সরবরাহ করা হয়।

বাকি সার বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বাপার ট্রানজিট গুদাম থেকে সরবরাহ করতে সার ব্যবসায়ীদের জানানো হয়।

পরে স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানেন চট্টগ্রাম কালুরঘাট বাপার ট্রানজিট গুদামে যেসব সার রয়েছে সেগুলো চীন থেকে আনা। যার অধিকাংশই নিম্নমানের এবং নষ্ট। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব সার চাঁদপুর জেলা শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ডিলারদের কাছে ট্রাকে ভর্তি করে পাঠানো হচ্ছে।

রোববারও চাঁদপুর শহরের ৫নং ঘাটের সার ব্যবসায়ীদের জন্য ৯টি ট্রাক ভর্তি ১৮০ টন সার পৌঁছে। এসব সার ট্রাক থেকে নামাতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা দেখেন অধিকাংশ সার লালচে রঙের জমাটবাঁধা ও পাথরের মত শক্ত। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হন ব্যবসায়ীরা।

৫নং ঘাটের সার ব্যবসায়ী শ্যামল ট্রেডার্সের মালিক হযরত আলী জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের এসব নষ্ট সার জোর করে দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা এসব সার নিতে চাচ্ছেন না।

অনুরূপ অভিযোগ করেন সার ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব। তিনি আরো বলেন, যেগুলো পাঠানো হয়েছে সেগুলো আমরা ফেরত দিতে চাই না। কিন্তু আমাদের পরবর্তী বরাদ্দকৃত সার যেন ভাল মানের হয় এবং এসব সার আশুগঞ্জ থেকে সরবরাহ করা হয়।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আলী আহম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, চাঁদপুরে বোরো চাষ হয় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে। এসময় সার সরবরাহ না করা হলে কৃষকরা মাঠেই মারা যাবেন। নষ্ট ও জমাটবাঁধা ইউরিয়া সার নিয়ে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সার মনিটরিং সভা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর সবুর মন্ডলের সভাপতিত্বে এ সভায় সার ব্যবসায়ী সমিতি ও কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর সবুর মন্ডল বলেন, পরবর্তীতে এসব নিম্নমানের জমাটবাঁধা নষ্ট সার যেন চাঁদপুরে আর সরবরাহ করা না হয় আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সে ব্যবস্থাই নেব।

ইকরাম চৌধুরী/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।