পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যের মামলা
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ (এএসআই) ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান এক সদস্য।
এতে পুলিশছাড়া এ মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক মেম্বার, যুবলীগ নেতা, শিক্ষক, দফাদারকেও। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকায় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এতে আসামি করা হয়েছে, আউলিয়াবাদ এলাকার মৃত আবদুল হাশেমের ছেলে সাবেক মেম্বার বশির আহমদ, মৃত আলী হোছনের ছেলে নজরুল ইসলাম, শফি আলমের ছেলে ফারুক, মৃত আবুল হোছনের ছেলে শফি আলম, মৃত সাহাব উদ্দীনের ছেলে মোহাম্মদ ছৈয়দ, জসিম উদ্দীন, মৃত কালু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলম, ঈদগাঁও ভাদিতলার বাসু দত্তের স্ত্রী দীপ দত্ত ও ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই আহসান মোর্শেদ।
ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদু শুক্কুর মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেছেন, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দু’দুবার নির্বাচিত মেম্বার তিনি। নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসায় তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এটি দেখে নির্বাচনে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর স্বজনরা তাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করে।
সরকারদলীয় লোক হয়েও বাদীর পরিবারকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন তারা। তাদের ষড়যন্ত্রে বিশেষ কোনো সুবিধা নিয়ে ব্যবহৃত হয়েছেন পুলিশ, দফাদারসহ অন্য আসামিরা।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাদীর স্ত্রী রাশেদা বেগম তার বাবার বাড়ি অবস্থানকালে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআইসহ আহসান মোর্শেদ ও অন্য আসামিরা বাড়িতে অভিযান চালায়।
এ সময় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করা হয়। পরে কিছু না পেয়ে বাদীর স্ত্রীকে কোনো কারণ ছাড়া ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় রাশেদার সঙ্গে পুলিশের তর্ক হলে অন্যান্য আসামিরা তার ওপর চড়াও হয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা তাকে প্রহার করে। পরে প্রতিশোধ নিতে রাশেদাকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়।
কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান বলেন, মেম্বার শুক্কুরের স্ত্রীর মাদক ব্যবসা নিয়ে এলাকাবাসীর দেয়া লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালায়। যেহেতু মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে সেহেতু রিপোর্টে যা উঠে আসবে সেভাবেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/আরআইপি