থামছেই না বাল্যবিয়ে


প্রকাশিত: ০২:৫৯ এএম, ১২ মার্চ ২০১৭
প্রতীকী ছবি

যেখানেই বাল্য বিয়ের অভিযোগ, সেখানেই সাঁড়াশি অভিযান। বাল্য বিয়ের প্রমাণ মিললেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থসহ কারাদণ্ড দেয়া হয়। শাস্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বর-কনের বাবা-মা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কেউই। কিন্তু তারপরও থামছে না বাল্যবিয়ের প্রবণতা।

বাল্য বিয়ে বন্ধে নজিরবিহীন অভিযান চালাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। গত এক মাসে অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করাসহ অন্তত ৪০ জনকে জেল-জরিমানা করেছেন তিনি।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে এক আলোচনাসভায় ১৮ জন কাজী এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের নিয়ে বাল্যবিয়ে রোধে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরাও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর থেকে উপজেলার যেখান থেকেই বাল্যবিয়ের অভিযোগ আসে, সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যান তিনি। আর প্রমাণ মিললেই অভিযুক্তদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানার শাস্তি দেয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের চলমান এই অভিযানের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাল্যবিয়ের সঙ্গে যুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও বর-কনের অভিভাবকদের মাঝে।

গত ১ মার্চ শিবগঞ্জের জমিনপুর গ্রামে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় কনের চাচা ও দাদাকে একমাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীর বিয়ে দেয়ার সময় সেখানে অভিযান চালিয়ে বিয়ে বন্ধের পাশাপাশি বর ও বরের দুলাভাইকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

২২ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার পারঘোড়াপাখিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করায় কনের মা তাসলিমা বেগম ও চাচা সেমাজুল ইসলামকে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া গত ২০ ফেব্রুয়ারি শিবগঞ্জের চাতরা ফাজিল মাদরাসার ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীর বাল্য বিয়ের দায়ে বর আব্দুল আলিম ও বরের ভাবি শিউলি বেগমকে দেয়া হয় ১৫ দিন করে কারাদণ্ড।

১৭ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৬ ছাত্রীকে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা করে উপজেলা প্রশাসন। এসব বাল্য বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এভাবেই গত একমাসে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক বাল্য বিয়ে বন্ধসহ অন্তত ৩০ জনকে জেল-জরিমানা করেছেন তিনি। বাল্য বিয়ের আয়োজন করলেই শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে অভিযুক্তদের।

গত ৬ মার্চ প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে এফিডেভিটের মাধ্যমে বয়স বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দেওয়ান জাইগীর গ্রামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয়। সেইসঙ্গে মেয়ের বাবাকে বাল্যবিয়ের দায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সর্বশেষ ১০ মার্চ মনাকষা ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের কনে মোসা. মাকসুদা খাতুনের বাবা আবদুস সামাদ ও কনের মামা হুমায়ন কবির, নয়ালাভাঙা ইউনিয়নের কমলাকান্তপুর গ্রামের বর গোলাম আজম ও ঢোড়বোনা গ্রামের বর মুক্তার হোসেনকে বাল্যবিয়ের দায়ে সাতদিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও মো. শফিকুল ইসলাম জানান, একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও যারা বাল্যবিয়ের আয়োজন করছেন, তাদেরই প্রচলিত আইনে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আব্দুল­াহ/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।