ডিমলায় মন্দিরে আগুন
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাকিনা চাঁপানী সার্বজনিন পুরাতন দূর্গা মন্দিরে মঙ্গলবার ভোরে অগ্নিসংযোগ করে পোস্টার সাটিয়ে দিয়েছেন দুর্বৃত্তরা। এতে মন্দিরটির সম্মুখভাগের গ্রিলসহ সামনের খুঁটি পুড়ে গেছে।
স্থানীয় জনতা দুস্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করতে না পারলেও পোস্টারের একটি লাইনে লেখা রয়েছে জামায়াত-শিবির বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় বসবাসরত শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ওই মন্দিরের সভাপতি নলিনী মোহন রায় বলেন, মঙ্গলবার ভোরে মন্দিরে আগুন দেখেতে পায় এলাকাবাসী। এ সময় লোকজন এগিয়ে এসে দেখে মন্দিরটি সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়েছে। পরে মন্দিরের পাশে সাটানো বিভিন্ন লেখা সম্বলিত পোস্টার দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দীন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে সাটানো পোস্টার উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় ওই মন্দিরের সভাপতি নলিনী মোহন রায় বাদী হয়ে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দীন সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে একটি মহল দেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করেছেন নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রমেন্দ্র নাথ বর্ধণ বাপ্পী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খোকারাম রায়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এমজেড/একে/আরআই