‘পীর’ ও তার পালিত কন্যার মূল ‘খুনি’ গ্রেফতার
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত মেয়েকে হত্যার ঘটনায় কুড়িগ্রাম থেকে মূল ঘাতক শফিকুল ইসলাম বাবুকে (৪২) আটক করেছে র্যাব।
সোমবার ভোরে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট বাজার এলাকা থেকে রংপুর র্যাব-১৩ তাকে গ্রেফতার করে।
এনিয়ে এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে আটক করা হলো। এর আগে ১৫ মার্চ একই উপজেলার সীমান্তবর্তী পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে এছাহাক আলী (৫৭) নামে অপর এক সন্দেহভাজন পীরকে আটক করে কুড়িগ্রাম পুলিশ।
রংপুরের র্যাব-১৩ এর অধিনায়ক এটিএম আতিকুল্যাহ জানান, পীর ফরহাদ ও পালিত মেয়ে রূপালীর মূল হত্যাকারী মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে বাবু (২৮)। জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করে আসছিল র্যাব। এ ঘটনায় এর আগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে শফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১৩ সিও বলেন, প্রলোভন দেখিয়ে শফিকুলকে দিয়ে ফরহাদ ও রূপালীকে হত্যা করান গ্রেফতার হওয়া কুড়িগ্রামের পাথরবাটি গ্রামের পীর মো. এছাহাক আলী।
জোড়া খুনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের পাথরবাটি গ্রামের পীর মো. এছাহাক আলী ও ফরহাদের খানকার প্রধান খাদেম মো. সাইদুর রহমান গ্রেফতারের পর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোবহান জানান, সোমবার ভোরে জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট বাজার এলাকা থেকে বাবুকে আটক করে রংপুর র্যাব-১৩। সে দিনাজপুর বোচাগঞ্জ থানার দৌলা এলাকার আজিমুদ্দিনের ছেলে।
উল্লেখ্য, ১৩মার্চ সোমবার রাতে বোচাগঞ্জ উপজলোর দৌলা এলাকায় পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত মেয়ে গৃহপরিচারিকা রূপালি বেগমকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ হাসান চৌধুরী (৬৮) দৌলা খানকার পীর হিসেবে পরিচিত। তিনি দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি। পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করে দলীয় কোন্দলের কারণে হেরে যান।
এছাড়া নিহত নারী মুরিদ রূপালী বেগম (২২) বোচাগঞ্জ এলাকার হোসেন আলীর মেয়ে। রূপালী ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর গৃহকর্মী ছিলেন।
নাজমুল হোসেন/এফএ/জেইউ/এনএফ/পিআর