রাজশাহীতে পদ্মার ভাঙন রোধে বিক্ষোভ
পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে টেকসই প্রকল্প গ্রহণ ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করে রাজশাহীবাসীকে রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে দুই ঘন্টাব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রাজশাহী মহানগরী ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষার্থে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরুর দাবি জানান তারা। পরে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন, নারীনেত্রী শাহীন আক্তার রেণী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, ওয়ার্কার্স পার্টির নগর সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, জেলা বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মন্টু, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মুরাদ খান, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুর হাসান মিঠু, পবার হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, রাসিকের কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পদ্মানদীর বাঁধ নির্মাণ রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। তবে বারবার দীর্ঘসূত্রিতায় এ প্রকল্প আটকে দেয়া হয়। বর্ষা মৌসুমের আগে এবার দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে বর্ষ মৌসুমে জরুরি কাজের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের জবাব দেবে এলাকাবাসী।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই পদ্মার বাঁধ রক্ষা করা না গেলে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাজশাহী আদালতসহ অসংখ্য সরকারি স্থাপনা রক্ষা করা যাবে না। তাই দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বাদশা অভিযোগ করে বলেন, পাউবোর একজন কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল আহমেদ এদেশের নদী ভাঙনকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বস্তা ও ব্লক গণনার নামে কালক্ষেপন করেন। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই তা আবার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যায়।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এবার দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহীবাসী আর ঘরে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে রাজশাহীবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীকে অচল করে দেয়া হবে। তিনি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে বহু সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির-গীর্জা, হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় কারাগার, কৃষি জমি, ফলের বাগান, জাতীয় সড়ক ও মহাসড়কসহ অত্র জনপদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
এমজেড/একে/আরআই