তারা কখনো পুলিশ, র্যাব বা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা
কখনো পুলিশ, কখনো র্যাব, কখনো গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা পরিচয়ে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল চট্টগ্রাম নগরীতে ছিনতাই করে বেড়াচ্ছে। তাদের দশ-পনের জনের একটি দল রয়েছে। নিজেদের কাজের সুবিধার্থে ব্যাজ, র্যাংক, নেমপ্লেট, ওয়াকিটকি, পুলিশের পোশাক, অস্ত্র সবকিছুই তারা কাজের সুবিধার্থে সংগ্রহে রেখেছেন।
তারা পোশাক পরে রাতের আঁধারে অন্ধকার গলিতে ছিনতাই করে থাকেন। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে তারা ছিনতাই করে। তাদের দেখে মনে হবে নগর পুলিশের কিংবা গোয়েন্দা শাখার করিৎকর্মা কোনো সদস্য। নগর পুলিশের কোতয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মো.আব্দুর রউফের নেতৃত্বে একটি দল এই চক্রের তিন সদস্যকে আটকের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন, মো.খালেদ হোসেন (৩০), মো.আলী হোসেন (৩৫) ও জামাল হোসেন (৪০)। এদের মধ্যে খালেদ হোসেন নিজেকে কখনো মেজর খালেদ আবার কখনো এস আই মাহিদ পরিচয় দিয়ে আসছেন। তার সূত্র ধরে আলী হোসেন ও জামাল হোসেনকে নগরীর সরাইপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
আটকের পর এই তিনজনকে সোমবার সকালে নগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশ কমিশনার মো.আব্দুল জলিল মণ্ডল জানান, এই নামে আমাদের একজন এসআইও আছেন। এতে আমরা দ্বিধায় পড়ে যাই। আমরা তাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় নিশ্চিত হয়ে আমরা একটি টিম গঠন করে অভিযান শুরু করি। পাঁচজন ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। আরও পাঁচজন সদস্য পলাতক বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।
নগর পুলিশের কোতয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, চক্রটি তিন ভাগে বিভক্ত। তারা নিজেদের ‘বেদি’ হিসেবে সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে। মূল বেদি যারা তারা তথ্য সংগ্রহ করে। কে ব্যাংকে গেছে, কত টাকা তুলেছে, কোনো পথ দিয়ে টাকা নিয়ে ফিরে যাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করে।
আরেকজন আছেন মূল সমন্বয়কারী। এখানে খালেদ ছিল মূল সমন্বয়কারী। তার কাজ হচ্ছে তিন দলের মধ্যে সমন্বয় করা। মূল সমন্বয়কারীর নিয়ন্ত্রণে থাকে মাইক্রোবাস। তৃতীয় দলে নির্দিষ্ট সিএনজি অটোরিকশায় করে পুলিশের পোশাক নিয়ে আসেন কয়েকজন। অটোরিকশা চালকও এই দলের সদস্য।
রউফ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন এ পর্যন্ত তারা ১০০টিরও বেশি ছিনতাই করেছেন। গত মাসে তারা পুলিশ পরিচয়ে দু’টি ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এমজেড/এমএএস/আরআই