বাকৃবিতে অর্গানিক শাক-সবজি চাষে সফলতা


প্রকাশিত: ০১:২৫ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৫

দেশে প্রথমবারের মতো অর্গানিক ফার্মিং পদ্ধতি অবলম্বন করে মাছ ও শাক-সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড.এম.এ. সালাম।

আর তিনি এ কাজ করেছেন বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং আঙিনায়।  

গতানুগতিক বা জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্যের প্রতি সারা পৃথিবীর মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। রাসায়নিক সার দিয়ে ফসল চাষাবাদ পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে ফসল উৎপাদন খরচও বেশি হয়। জৈব সার দিয়ে ফসল চাষাবাদ পরিবেশ বান্ধব ও উৎপাদন খরচ কম হয়। উৎপাদিত খাদ্যও স্বাস্থ্যসম্মত। জৈব উপায়ে খাদ্য শস্য ও শাকসবজি উৎপাদন খরচ কম অথচ বেশি দামে দেশে ও বিদেশে বিক্রির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

এ সম্পর্কে ড. সালাম বলেন, খুব কম খরচে আমি আমার বাড়ির ছাদে অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতি অবলম্বন করে শাক-সবজি যেমন স্ট্রবেরি, লেটুস, টমেটো, ওলকপি, ফুলকপি, ঢেঁড়স, বরবটি, কচু, পুঁদিনা, পেঁপে ইত্যাদি চাষাবাদ করছি। এ পদ্ধদিতে পানি খুব কম দরকার হয়। একই সাথে অধিক মাত্রায় তেলাপিয়া মাছ চাষ করছি। এতে করে আমি ও আমার পরিবার বাইরের ভেজাল খাবার থেকে খানিকটা হলেও মুক্ত থাকতে পারছি।

পদ্ধতিটি সম্পর্কে ড. সালাম জানান, জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষে আমি উলম্ব পদ্ধতি ব্যবহার করছি। এই পদ্ধতিতে আমি ৪ ইঞ্চি ব্যাস ও ৪.৫ ফুট লম্বা এক একটি প্লাস্টিকের পাইপের মাঝে ১৩-১৫ টি ছিদ্র করি। এ ছিদ্রের মাঝে নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ভর্তি করা হয় যাতে পাইপটি বেশি ভারী না হয় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। পাইপের প্রতিটি ছিদ্রের মাঝে একটি করে শাক-সবজির চারা রোপণ করা হয়। চারাগুলোর শিকড়কে এমন ভাবে পাইপের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যাতে তা নারিকেলের ছোবড়ার মাঝে ভালোভাবে ছড়িয়ে থাকে।

এরপর পাইপগুলিকে উলম্বভাবে একটি বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে নিচের দিকে একটি চিকন পাইপের সাথে যুক্ত করে পানি নির্গমন পাইপের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে পাইপের উপর দিয়ে প্রবাহিত পানি নারিকেলের ছোবড়া ও গাছের শিকড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নির্গমন পাইপের সাহায্যে পরিষ্কার পানি মাছের ট্যাঙ্কে এসে পড়ে।

উলম্ব পদ্ধতির পাশাপাশি আনুভূমিকভাবে দোতলা-তিন তলা পদ্ধতিতে এটা করা যায়। একটি মাচার উপর কয়েক সারি ছিদ্রযুক্ত পাইপ বা ট্রে স্থাপন করে তার মাঝে প্লাস্টিকের গ্লাসে ইটের খোয়া দিয়ে সবজির চারা রোপণ করেও অল্প স্থান হতে সারা বছর অধিক ফসল উৎপাদন করে ভূমির উপর চাপ কমানো সম্ভব।

তিনি এ পদ্ধতির মাধ্যমে পাইপের এক পাশ হতে মাছের পানি সরবরাহ করেন এবং  অপর পাশ দিয়ে পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। মাছ পালনের জন্য একটি ৫০০ লিটারের প্লাস্টিকের পানির ট্যাঙ্কের উপরের মাথা কেটে পানি দিয়ে পূর্ণ করে তাতে প্রতি ১০ লিটার পানিতে একটি করে তেলাপিয়া মাছের পোনা ছেড়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দুই বেলা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ভাসমান খাবার সরবরাহ করেন। মাছের ট্যাঙ্কে যাতে অক্সিজেনের অভাব না হয় তার জন্য একটি বায়ু পাম্পের সাহায্যে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করেন।

এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানিকে একটি ছোট্ট পাম্পের সাহায্যে প্রতিটি পাইপের উপর দিয়ে পানি সরবরাহ করা হয়। এই পদ্ধতিতে মাছের ট্যাঙ্কে অ্যামোনিয়াযুক্ত দূষিত পানি নারিকেলের ছোবড়া, ইটের খোয়া ও গাছের শিকড়ের মাঝে বসবাসকারী ডি-নাইট্রিফায়িং ব্যাকটেরিয়া প্রথমে অ্যামোনিয়াকে ভেঙে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রোব্যাকটর নাইট্রেটে পরিণত করে যা পাইপে অবস্থিত গাছকে পুষ্টির জোগান দেয় এবং পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এখানে কোনো প্রকার মাটি, রাসায়নিক সার বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এ পদ্ধতিতে মাটিবাহিত রোগ বালাইয়ের উপদ্রবও কম হয়।

এসএস/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।