পঞ্চগড়ে অব্যাহত চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


প্রকাশিত: ১২:৩৪ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৭

পঞ্চগড়ের বিকাশ এজেন্ট স্বরনিকা এন্টার প্রাইজে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অফিসের তিনটি কক্ষের ভোল্ড এবং আলমিরা ভেঙ্গে নগদ ২২ লাখ টাকা এবং একটি মোবাইল কোম্পানির ৩ লাখ টাকার রিচার্জ কার্ড নিয়ে গেছে।

সোমবার গভীর রাতে শহরের ধাক্কামারা এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। স্বরনিকা এন্টার প্রাইজ বিকাশের পাশাপাশি ইউনিলিভার এবং মোবাইল কোম্পানি রবি অপারেটরের পরিবেশক। তবে চুরির দৃশ্যটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় রেকর্ড হলেও পুলিশের তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি।

পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, শহরের ধাক্কামারা এলাকার স্বরনিকা এন্টার প্রাইজ নামে একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান বিকাশ, ইউনিলিভার এবং মোবাইল কোম্পানি রবি অপারেটরের পরিবেশক। সোমবার দিনে বিকাশসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির টাকা নিরাপত্তার জন্য অফিসের ভোল্টে রাখা হয়। অফিসের নিচ তলায় নৈশপ্রহরি ছিল। কিন্তু গভীর রাতে ৩লা ভবনের ২য় তলার একটি থাইয়ের জানালা খুলে ভেতরে ঢুকে দুই যুবক। পরে তিনটি কক্ষ থেকে ভোল্ড এবং আলমিরা ভেঙে নগদ ২২ লাখ টাকা এবং ৩ লাখ টাকার রিচার্জ কার্ড নিয়ে যায়।

এদিকে চুরির ঘটনাটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় সয়ক্রিয়ভাবে রেকর্ড হয়। ভিডিও দৃশ্যে দেখা যায়, জিন্স, টি শার্ট এবং জ্যাকেট পরিহিত দুই যুবক হাতে রড জাতীয় একটি যন্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকে। তারা ২য় তলায় বাড়ি মালিকের অন্য ইউনিটের কক্ষে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। এময় তারা ৩টি ফ্লাটের বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে নগদ টাকাসহ রিচার্জ কার্ড চুরি করে।

এদিকে সম্প্রতি বিভিন্ন বাসা বাড়িতে দুঃসাহিক চুরিসহ মটরসাইকেল চুরির ঘটনা বেড়েই চলছে। গত মাসের শেষ সপ্তাহে শহরের তিনটি পয়েন্ট থেকে জেলা প্রশাসন অফিসের নাজিরসহ তিনজনের মোটরসাইকেল চুরি হয়।

Great

স্থানীয় চার সাংবাদিক হারুন অর রশিদ বাবু, সাইফুল আলম বাবু, রাজিউর রহমান রাজু, এবং সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের বাসা থেকেও সাইকেল, মটরসাইকেল, লেপটপ, স্বর্ণালংকারসহ গরু চুরি হয়। মামলাও হয়েছে। কিন্তু চাঞ্চল্যকর এসব চুরির ঘটনায় কিছুই করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে ফেসবুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাংবাদিকসহ সাধারণ নাগরিকরা। তবুও আলোচিত বিভিন্ন চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সম্প্রতি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নেতাসহ সাধারণ নাগরিকরা।

পঞ্চগড় চেম্বর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল আলম পাটোয়ারি বলেন, আমরা বাসাতে ভয়ের মধ্যে রাত কাটাই। কখন কোন ঘটনা ঘটে যায়।

তিনি বলেন, চেম্বারের সদস্য তাজুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনাটি নিঃসন্দেহে দুঃসাহসিক। আশা করি ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ দ্রুত চোরদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবেন।

সদর থানা পুলিশের ওসি রবিউল হাসান সরকার বলেন, এটা কি কোনো নিউজ করার মতো ঘটনা হলো ! আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি, কত টাকা এবং কিকি চুরি গেলো হিসেব নিচ্ছি। মামলা হবে, তখন ব্যবস্থা নিব। আমরা যখন চোর ধরবো, যখন আমাদের সফলতা আসবে তখন নিউজ করবেন।

পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহামেদ বলেন, বিকাশ এজেন্টের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পুলিশ অফিসাররা গেছেন। বিয়টি তারা দেখছেন।

সফিকুল আলম/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।