অমরখানা সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা


প্রকাশিত: ০৮:৫০ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৭

প্রতি বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পঞ্চগড়ে দুই বাংলার মিলনমেলা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে সদর উপজেলার অমরখানা সীমান্তে এই মিলনমেলা শুরু হয়। ভৌগোলিক সীমারেখার বেড়াজালে বন্দি কয়েক হাজার মানুষ মিলিত হয় কাঁটাতারের দুই পাশে। বছরের বিশেষ কোন দিনে ভারত-বাংলাদেশের এসব বাঙালি সুযোগ পেলেই মিশে যায় একে অন্যের সঙ্গে।

দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পঞ্চগড় এবং আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা জড়ো হতে থাকে অমরখানা সীমান্তের উভয় পাশে। দুপুরের মধ্যেই কাঁটাতারের উভয়পাশে জড়ো হয় দুই বাংলার লাখো মানুষ। প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয় মিলনমেলা। বেড়ার দুইপাশে দুই দেশের নাগরিক হলেও জাতিতে তারা এক। এরা সবাই বাঙালি। একে অন্যের আত্মীয়।

দীর্ঘদিন পর কাছের মানুষদের দেখতে পেয়ে তারা ভুলে যান সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। বেড়ার ফাঁক দিয়ে একে অন্যের হাত ধরেন, কথা বলেন। বিনিময় করেন নানান উপহার সামগ্রী। কেউ আবার কেঁদে ফেলেন আবেগে। বছরজুড়ে অপেক্ষায় থাকা এসব মানুষ আত্মীয়দের দেখতে পেয়ে বেশ উল্লাসিত। বিজিবি এবং বিএসএফের সহযোগিতায় সন্ধার পূর্ব পর্যন্ত চলে মিলনমেলা।

শুক্রবার সকালে সরেজমিন অমরখানা সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই নানান বয়সের মানুষ আসতে থাকে সদর উপজেলার এই সীমান্তে। দুপুরের প্রখর রোদ অপেক্ষা করে লাখো মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে স্বজনদের এক নজর দেখতে। ওই সীমান্তের ৭৪৩, ৭৪৪ ও ৭৪৫নং মেইন পিলার ঘেঁষে প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেখা যায় শুধুই মানুষের ঢল। পরিণত হয় দুই বাংলার স্বজনহারা মানুষদের মিলন মেলায়।

Panchagarh

মিলন মেলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাও, নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানান বয়সী অসংখ্য মানুষ অংশ নেন।

অন্যদিকে ভারতের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং জেলার বিভিন্ন এলাকার ভারতীয়রা আসেন কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে। মিলন মেলায় আসা দুই বাংলা এসব মানুষের অধিকাংশ নিম্ন আয়ের।

ভিসা এবং পাসপোর্ট করে তাদের আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই। তাই বছরজুড়ে এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন এসব মানুষ। তারা চান প্রতি বছর এই দিনে উভয় দেশের মানুষের এই মিলনমেলা চালু থাক।

ঠাকুরগাওয়ের ভুল্লি এলাকা থেকে আসা ছত্রমোহন রায় বলেন, আমার তিন মেয়ে এবং জামাই ভারতের চাউলহাটি এলাকায় থাকেন। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে এভাবেই দেখা করি। এবারও তাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে ভালো লাগছে।

সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার স্বরদিনি বালা (৬৫) বলেন, আমার নাতি থাকে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলায়। সকাল থেকে তার জন্য অপেক্ষা করছি। এখনো দেখা করতে পারিনি।

অমরখানা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু বলেন, বিজিবি এবং বিএসএফের সহযোগিতায় প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে এখানে দুই বাংলার লাখো মানুষের মিলনমেলা হয়। এবারও শান্তিপূর্ণভাবে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দুই দেশের মানুষরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে তাদের নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রাণ খুলে কথা বলেছেন।

এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।