পাথর উত্তোলন অব্যাহত, হুমকির মুখে তিস্তা ব্যারাজ


প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৭

দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তার ব্যারাজ কমান্ড এলাকায় চলছে অবাধে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। পাথর উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা ব্যারাজটি।

অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীরা নৌকায় বোমারু মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন করে তিস্তার উজানে কলম্বিয়া বাঁধ ও ব্যারাজ সংলগ্ন প্রধান গেটের ফরেস্ট বাগানে এসব পাথর আনলোড করছে।

তিস্তা নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও একটি মহল দীর্ঘদিন থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন করছে। ফলে তিস্তার বাম তীর ও ডান তীর বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বাঁধটিতে প্রতিদিন শত শত ট্রলি ও ট্রাক্টর চলার কারণে অধিকাংশ স্থান নষ্ট হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

অভিযোগ উঠেছে তিস্তার উজানে পাথর উত্তোলনের টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের প্রভাবশালী সরকারদলীয় নেতা ময়নুল হক, ইউপি সদস্য গোলাম রাব্বানী ও ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা ইলতুসমিন কবীর জড়িত থাকায় প্রশাসন নীবর ভূমিকা পালন করছে।

চরখড়িবাড়ি গ্রামের পাথর শ্রমিক সাজু মিয়া (৩০), ফরহাদ হোসেন (৪০), সহিদুল ইসলাম (৩২), আবুল কালাম (৩৮) বলেন, তারা আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল হকের নির্দেশেই পাথর উত্তোলন করছে। এজন্য তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতিজনকে দেয়া হয় ৩০০ টাকা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, আমরা পেটের দায়ে পাথর উত্তোলন শেষে ওনাদের নিদের্শেই এসব পাথর তিস্তা ব্যারাজের উজানে ফরেস্ট বাগানে পৌঁছে দেই। পরে সেখানে থেকে পাথর ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান। প্রতিদিন ৫০-৬০টি নৌকায় সেখানে পাথর পৌঁছে দেয়া হয়। তবে পাথর পরিবহনের জন্য প্রতি নৌকা ভাড়া দেয়া হয় ৮০০ টাকা।

তিস্তা নদী এলাকা থেকে পাথর উত্তোল ও পরিবহন অবৈধ হলেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব থাকার কারণে সেখানে কেউ বাধা দিতে যায় না বলে জানা গেছে। তবে কত টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করা হয় সে বিষয়ে কিছু জানে না স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি, মধ্য খড়িবাড়ি ও জিঞ্জিরপাড়া শতাধিক নৌকায় পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

Tista

চরখড়িবাড়ি গ্রামের পাথর শ্রমিক সাজু মিয়া, ফরহাদ হোসেন, সহিদুল ইসলাম ও আবুল কালাম অভিযোগ করে জানান, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে পাথর উত্তোলন করছেন তারা। প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে তাদের পারিশ্রমিক দেয়া হয়।

তারা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল হক ও ইউপি সদস্য গোলাম রাব্বানীর নির্দেশে পাথর উত্তোলন করে তিস্তা ব্যারাজের উজানে টোল সংলগ্ন ফরেস্ট বাগানে পৌঁছে দেয়া হয়।

ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পাথর উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ২ নং ওযার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম রাব্বানী বলেন, যেহেতু এলাকায় থাকি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল ইসলাম বলেন, পাথর উত্তোলনের বিষয়টি সত্য নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইলতুসমিন কবীর বলেন, টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে কোথাও কোনো পাথর উত্তোলন করা হয় না। কিন্তু চরখড়িবাড়ি এলাকায় কিছু লোক নদীতে পাথর কুড়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, তিস্তায় পাথর উত্তোলন করার বিষয়টি বিজিবি সদস্যদের অবগত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।